বর্ধমানঃ  এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে চলছে প্রতিবাদ।মানুষের একাংশ মোদী সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। অসম, ত্রিপুরাতে অবস্থা আরও খারাপ। মোদী সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে খোদ বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আর এই ক্ষোভ থেকেই একের পর এক রাজ্যে বিজেপি নেতা-কর্মীরা দল ছাড়ছেন।

বাংলাতেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় দল ছেড়েছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। বালুরঘাটে দল ছেড়েছেন এক সংখ্যালঘু নেতা। এবার এনআরসি-র প্রতিবাদে দল ছাড়লেন রাজ্য বিজেপির ৫০০ নেতা-কর্মী-সমর্থক। বিশাল সংখ্যায় নেতা-কর্মীর দল ছাড়ার ঘটনায় বর্ধমানে বড়সড় ধাক্কা বিজেপির। সবাই দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

তৃণমূল নেতা মেহমুদ খান জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত এনআরসি-র প্রতিবাদে জামালপুর ব্লকের পাড়াতল ১ ও ২, প্যাঁচরা, জামালপুর–২ ও আঝাপুর এই ৫ টি গ্রামের প্রায় ৫০০ রও বেশি মানুষ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আমরা তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁদের সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছি। এঁদের মধ্যে যেমন বিজেপির বুথ সভাপতি রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন সক্রিয় কর্মীরাও। এছাড়াও রয়েছেন পারাতলা এক নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি জয়ন্ত মল্লিক। বর্ধমানের মতো জায়গায় রীতিমত বড়সড় ধাক্কা বিজেপির কাছে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিকমহল।

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে শরিক হতে চান বিজেপি ছেড়ে আসা নেতা-কর্মীরা। শুধু তাই নয়, উন্নয়নের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা বিজেপি ছেড়ে আসা নেতা-কর্মীরা পালন করবে বলে জানিয়েছে নেতৃত্ব।

বিজেপি ছেড়ে আসা নেতা-কর্মীদের দাবি, বাংলায় যেভাবে এনআরসি চালু করা হবে বলে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার প্রচার করছে, সেটা হলে আমরা আগামী দিনে ভীষণ অসুবিধার মুখে পড়ব। আমরা দিন আনি দিন খাই, আমাদের জমিজায়গা ইত্যাদির কাগজপত্র এখনও ঠিক হয়নি। এই কাগজপত্র ঠিক করতে গেলে প্রচুর টাকা দরকার। সেই টাকা আমাদের নেই। জোগাড় করা এখন সম্ভবও নয়। সরকারের এনআরসি সংক্রান্ত প্রচারে আমরা বিজেপি কর্মীরাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি। কাগজপত্র ঠিক করতে না পারলে আমরা নিজেরাই দেশছাড়া হব। আর সেজন্যে দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হব বলে জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।