স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ‘কে বলেছে আমরা হেরেছি। ইভিএমে ভোট হলে বিজেপি জেতে, আর ব্যালটে ভোট হলে বিজেপি হারে’। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া শহরে দলের জনসংযোগ যাত্রায় যোগ দিতে এসে ঠিক ভাষাতেই ইভিএমে ভোটের বিরোধীতা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী, দলের তরফে বাঁকুড়া জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন দলের বাঁকুড়া জেলা সাংগঠনিক সভাপতি শুভাশিস বটব্যালকে পাশে নিয়ে তিনি আরও বলেন, গত দেড় মাস আগে ভোট হয়েছে। কোন ধরণের প্রচার নেই, গাড়ি দিতে পারিনি। তবুও জনসংযোগ যাত্রায় মহিলা ও যুব সহ হাজার হাজার কর্মী যোগ দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সরকার ও তার বাজেটের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এখানকার দুই কেন্দ্রেই এখন বিজেপির সাংসদ। বাঁকুড়াকে নতুন রেল তো দূর অস্ত, একটা বগিও দিতে পারেননি সাংসদ সুভাষ সরকার। উল্টে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিক্রির তোড়জোড় চলছে রেল, বিএসএনএল সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। এছাড়াও বেঙ্গল কেমিক্যাল সহ ৪৫ টি নবরত্ন বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

চাচা নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধীরা যে দেড় লক্ষ টাকার সরকারী সম্পত্তি করেছিলেন, এরা তা বিক্রি করবে। আর এই বিলগ্নীকরণের বিরুদ্ধে তাদের দল লড়াই করছে বলেও তিনি জানান।

এদিন তিনি আরো বলেন, সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তারা কোন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হলে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর তৈরী করা নবান্নের অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ জানান। ইতিমধ্যে কুড়ি হাজারের বেশী অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৯ হাজার সমস্যার সমাধান মিলেছে। আপনিও অভিযোগ জানান, ফলাফল পাবেন।

‘উন্নয়নকে সাধারণ মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেওয়া গেছে’ দাবী করে তিনি আরো বলেন, দখলের রাজনীতি নয়, আমাদের একার অফিস থাকবে হবেনা। সব দলের অফিস থাকবে। কেউ ঘরছাড়া হবেনা, মানুষ নিজের বাড়িতেই রাতে ঘুমোবে। বাঁকুড়ায় এই রাজনীতি শুরু করার ডাক দিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, এভাবেই আমরা বাঁকুড়ায় আবারো জিতবো।

এদিন তৃণমূলের জনসংযোগ যাত্রা বাঁকুড়া শহরের লালবাজারে শুরু হয়ে মাচানতলায় শেষ হয়। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের বাঁকুড়া জেলা সাংগঠনিক সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল, বিধায়ক শম্পা দরিপা প্রমুখ।