কলকাতা: দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বাংলাতেও। ভোটের বাংলায় সংক্রমণের বিদ্যুৎ গতি। এই আবহে এবার সতর্ক বিজেপি। নির্বাচনের বাংলায় আর বড় জমায়েত নয়। রাজ্যে আগামী দফার নির্বাচনগুলিতে ছোট ছোট আকারে সভা করার উপরেই জোর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

করোনাকালে বাংলার ভোট এবার আট দফায়। যা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের। ভোট চলাকালীন রাজ্যে করোনার সংক্রমণ লাগামছাড়া। এই আবহেও নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। একইসঙ্গে কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে বিজেপিরও। বিজেপির জন্যই বাংলায় করোনা ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের নেতারা। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্যের বাকি পর্বের নির্বাচনগুলি এক দফায় করারও দাবি জানায় তৃণমূল। যদিও শেষমেশ পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভোট করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

তবে পরবর্তী দফা গুলিতে কোভিড প্রোটোকল মেনে চলার ব্যাপারে আরও বেশি জোর দেওয়া হবে বলে স্থির করেছে কমিশন। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার, সভা-সমাবেশেও রাশ টানা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে পাঁচ দফার নির্বাচন শেষ হয়েছে। ষষ্ঠ দফায় ভোট হবে আগামী ২২ এপ্রিল। সপ্তম দফায় ভোট গ্রহণ হবে ২৬ এপ্রিল। অষ্টম তথা শেষ দফায় ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যেই ভোট গণনা ২ মে। এদিকে দেশে হুহু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ । গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ১৭০ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬১ জনের।

ভোটের বাংলাতেও সংক্রমণ লাগামছাড়া। সোমবার সন্ধেয় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া হেল্থ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে একদিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪২৬ জন। শুধু কলকাতাতেই একদিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২১১ জন। সংক্রমণের নিরিখে কলকাতাই রাজ্যে প্রথম। শহর কলকাতার পরেই দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। একদিনে উত্তর ২৪ পরগনায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮০১ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫২২ জন। হাওড়া ও হুগলি-সহ একাধিক জেলায় ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩৫৩ জন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে ১০ হাজার ৬০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির সেকথা মাথায় রেখে বড় সভা, মিছিল বন্ধের সিদ্ধান্ত বিজেপির। বিজেপির তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সভায় এবার থেকে পাঁচশো জনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে। সভায় কোভিড প্রোটোকেল মেনে প্রত্যেককে চলতে হবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.