স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুর্শিদাবাদের জিয়াগুঞ্জ এলাকায় শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং শিশুপুত্রকে খুনের ঘটনার বিচার চেয়ে নবান্ন অভিযান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, হাওড়া-কলকাতা এক করে দেব। নবান্নে শাসককে শান্তিতে থাকতে দেব না। বন্ধু গোপাল এবং তাঁর স্ত্রী-পুত্র খুনের বিচার চাই।

শুক্রবার মেয় রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সভা করে বিজেপি। ওই সভায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেন, জিহাদি আক্রমণের খুন হয়েছে পাল পরিবার। ছোট শিশুটির দেহ যেভাবে ছিন্ন ভিন্ন করা হয়েছে তা থেকেই পরিষ্কার, এটি ‘প্রতিশোধ মূলক খুন।’ নাহলে, কেউ অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বা শিশুকে খুন করতে পারে না। বন্ধুপ্রকাশ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিজেপির বক্তব্য, সেই কারণেই তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে। বিজেপির ৮৫ জন কর্মী খুন হয়েছে। এবার সঙ্ঘকে টার্গেট করা হয়েছে। জিয়াগঞ্জের ঘটনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দকে জানাবে বিজেপি। কারণ বিজেপি মনে করছে, এই রাজ্যে সঙ্ঘ কর্মীদের হত্যার ঘটনা আগে ঘটত না। কিন্তু, পাল পরিবার খুনের মাধ্যমে সেই রেওয়াজ শুরু হল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপি কর্মীরা খুন হয়েছে বলে খবর এসেছে।

বিজেপির হিসাব অনুযায়ী, লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় ৮৫ জন কর্মী সমর্থক খুন হয়েছেন। বিজেপির দাবি, পুলিশ যা তদন্ত করছে তাতে সন্দেহের কারণ আছে। বিজেপি নেত্রী এবং প্রাক্তন আই পি এস ভারতী ঘোষ বলেন, বারাকপুরে পুলিশ কুকুর গুলি কি করছিল। তদন্তে কুকুর ব্যবহার করা হলো না। ভারতীয় কথার রেশ ধরে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর বক্তব্য, পুলিশ কালীঘাটের কুকুর হয়ে গিয়েছে। কাজ করবে কি করে। কোন বিজেপি নেতাকে জাল কেস দিতে হবে এই চিন্তা করছে। এদিন দিলীপ ঘোষ জিয়াগুঞ্জ খুন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়াও সিপিএম এবং কংগ্রেসের সমালোচনা করেন।