লখনউ: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া রাজ্যে উত্তর প্রদেশেই ভরাডুবি ঘটতে চলেছে বিজেপির। এমনই ইঙ্গিত দিল জনমত সমীক্ষা। লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের মাস খানেক আগে এই সমীক্ষা চালিয়েছে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এবং কারভে ইনসাইটস।

চলতি সপ্তাহেই ওই জনমত সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। যা কপালে ভাঁজ ফেলেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। কারণ এই উত্তর প্রদেশই হচ্ছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য। যিনি নরেন্দ্র মোদীর পরে বিজেপির জনপ্রিয় নেতা। দেশের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় রাজ্যে ভরাডুবি নির্বাচনের সার্বিক চিত্রেও আমূল বদল ঘটাতে পারে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভারতীয় রাজনীতিতে একটা বড় প্রবাদ প্রচলিত আছে যে উত্তর প্রদেশ দখল করলে সমগ্র ভারত দখল করা অনেক সহজ হয়ে যায়। সেই রাজ্যে এই মুহূর্তে শাসন করছে বিজেপি। যার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্য থেকেই চমকপ্রদ ফল করেছিল বিজেপি। ওই রাজ্যে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা পাঁচ থেকে ৭১-এ পৌঁছে গিয়েছিল। শরিক আপনা দলের সমর্থনে ওই রাজ্য থেকে লোকসভায় এনডিএ-র সদস্য সংখ্যা হয় ৭৩।

 

সেই জয়ের ধারা অব্যাহত ছিল ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দেশের সব থেকে বড় রাজ্যের বিধানসভা দখল করে বিজেপি। সেই সময়ে গোরক্ষপুরের সাংসদ যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন করা হয়। পরে গোরক্ষপুরের লোকসভা উপনির্বাচনে পরাস্ত হয় বিজেপি।

সেই ফলেই পালে হাওয়া পায় বিরোধী শিবির। ইতিমধ্যেই ওই রাজ্যে যুযুধান দুই পক্ষ সপা এবং বিএসপি বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার কথে ঘোষণা করেছে। দুই দলই ৩৮টি করে আসনে লড়াই করার পরিকল্পনা করেছে। বাকি চারটি আসনের মধ্যে দু’টি কংগ্রেসের জন্য এবং অপর দু’টি শরিক দলের জন্য ছেড়েছিলেন মায়াবতী-অখিলেশ।

বিরোধী জোটকে গুরুত্বহীন বলে দাবি করলেও এই জোটই যে বিজেপির মসৃণ পথে অন্তরায় হতে চলেছে। এমনই দাবি করছে ইন্ডিয়া টুডে এবং কারভে ইনসাইটস সমীক্ষা। ২৪০০ জনের উপরে চালানো ওই জনমত সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে যে ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে উত্তর প্রদেশে বিজেপি পেতে চলেছে মাত্র ১৮টি আসন। যার অর্থ গত বছরের তুলনায় বিজেপির আসন সংখ্যা কমতে চলেছে ৫৩টি। ভারটি আসন পেতে পারে কংগ্রেস। ২০১৪ সালে এই সংখ্যাটা ছিল দুই। আমেঠি কেন্দ্র থেকে রাহুল গান্ধী এবং রায়বেরেলি থেকে সোনিয়া গান্ধী জিতেছিলেন।

জনমত সমীক্ষা অনুসারে, বিজেপি এবং কংগ্রেস মিলে ২২টি আসন পেতে চলেছে উত্তর প্রদেশে। বাকি ৫৮টি আসন পেতে চলেছে সপা-বিএসপি জোট। যার অর্থ কংগ্রেসকে ছাড়াই দুই আঞ্চলিক দল মিলে বিজেপিকে হারাতে সক্ষম। এই জনমত সমীক্ষার ফল সত্যি প্রমাণিত হলে ভারতের রাজনীতিতে একটা নতুন ইতিহাস রচনা হবে তা বলাই বাহুল্য। তবে চূড়ান্ত ফল জানতে আরও মাস চারেক অপেক্ষা করতে হবে।