স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পাবে – কথা দিয়েছেন মুকুল রায়৷ মুকুলের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজ্যে ক্ষমতায় থাকলে মানুষ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট দিতে পারবে৷ ’’ প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূলের লোকরাই তো আপনাদের দলে যাচ্ছে৷ মুকুলের মন্তব্য, মঙ্গলগ্রহ থেকে তো লোক আসবে না৷ লোকতো এই গ্রহ থেকেই আসবে৷ স্বাভাবিকভাবেই নিয়ন্ত্রণ তো দলের থাকবে৷ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলে, মানুষ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট দেখবেই৷ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে পশ্চিমবঙ্গে ভোট অবাধ হবে না, দাবি মুকুলের৷ মুকুল বলেন, আমি দলকে প্রস্তাব দেব যে বিষয়টি চিন্তা ভাবনা করুক৷ অন্তত কমিশনে তিনজন কমিশনার রাখা হোক৷

লোকসভা নির্বাচনের বাংলায় রক্তাক্ত পঞ্চায়েত ভোটকে ইস্যু করেছে বিজেপি৷ অমিত শাহ – নরেন্দ্র মোদী বারবার বলেছেন, বাংলায় নির্বাচন যেভাবে হয়, সারা দেশে সেইভাবে নির্বাচন হয়না৷ নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব৷ কিন্তু বাংলায় তা যেন মৃত্যু মিছিল৷ শাহ-মোদীর কথায় উঠে এসেছে, বাংলায় শুধু নয়, বিজেপি সারা দেশেই নির্বাচন লড়েছে৷ সারা দেশেই বিজেপি বিরোধীরা রয়েছে৷ কিন্তু, কোথায়, নির্বাচনের নামে খুনোখুনি করেনি শাসকদল৷ তৃমমূল কংগ্রেস তাদের ‘রেড অ্যালার্ট’ দেখে ফেলেছে৷ সেই কারণে খুনোখুনি শুরু করেছে৷

বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৬০ জনেরও বেশি বিজেপি কর্মী খুন হয়েছে বলে নেতারা দাবি করেন৷ দাবি করা হয়, অন্যান্য দল মিলিয়ে থুন হওয়ার ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৮০ জন৷ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮টি আসন পেয়ে তৃণমূলকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে৷ লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ফলে বিজেপির ১৪ জন খুন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে৷ পঞ্চায়েত ভোটের পুরুলিয়াতেই দুই বিজেপি কর্মী খুন হয়েছে৷

পুরুলিয়ার বলরামপুরে বিজেপির আঞ্চলিক নেতা, কলেজ ছাত্র ত্রিলোচন মাহাতোর দেহ গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়৷ দেহে একটি পোস্টার সাঁটা ছিল৷ বিজেপি করার অপরাধেই যে ত্রিলোচনকে খুন হতে হয়েছে, তা স্পষ্ট লেখা ছিল ওই পোস্টারে৷ সপ্তাহ খানেক পরেই একই কায়দায় খুন হন দলিত বিজেপি নেতা দুলাল কুমার৷ বিদ্যুতের হাইটেনশ্যন পোলে ঝুলছিল দুলালের দেহ৷

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।