ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: পুরুলিয়ার জেলার বাঘমুণ্ডি বিধানসভার সোনাবনা গ্রামে ঝুলন্ত বিজেপি কর্মীর দেহ ফের মনে করানো ওই জেলারই বলরামপুরের ত্রিলোচন মাহাত এবং দুলাল কুমারের স্মৃতি ফস্কে দিয়েছে৷ যদিও বাঘমুণ্ডির শিশুপাল সহিসের (২২) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে আগাম মন্তব্য করতে নারাজ জেলা বিজেপি৷ বিজেপির মতে, পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসককে স্বচ্ছ তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে৷

জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিবেক রঙ্গ বলেন,‘‘চিকিৎসকদের প্যানেল ময়নাতদন্ত করুক, এই আবেদন জানিয়েছি পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসককে৷ সমস্ত ময়নাতদন্তের পদ্ধতি ভিডিও রেকর্ডিং করা হোক৷’’

এই ঘটনা কেন ঘটল এবং ঘটনার পিছনে কারা জড়িত থাকতে পারে, বিষয়টি বিজেপির কাছেও পরিষ্কার নয়৷ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদকের বিষয়টির তদন্ত চলছে৷ জেলা পুলিশ বলা হয়েছে অভিযুক্ত বা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে৷ ইতিমধ্যেই এফআইআর করা হয়েছে৷ জেলা সূত্রে যা খবর, বাঘমুণ্ডি বিধানসভার অর্ষা থানার অন্তর্গত সিরকাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য যাদব সহিসের ছেলে শিশুপালেক ঝুলন্ত দেহ গ্রামবাসিরা বৃহস্পতিবার সকালেই৷ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, ‘‘যেভাবে ওকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা দেখে মনে হচ্ছে খুন করা হয়েছে৷ আমদের সন্দেহ খুনই হয়েছে ওই যুবক৷’’ সিরকাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতটি বিজেপির দখলে৷

ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য সোনাবনা গ্রামের বাসিন্দা যাদব সহিস৷ আর্ষা ব্লকে বিজেপির ৯ জন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রয়েছেন৷ পুরুলিয়াতে জেলা পরিষদের ৮ জন সদস্য রয়েছে৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের সন্ত্রাসের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুরুলিয়াতে ভালো ফল করেছে বিজেপি৷ অন্যদিকে পুরুলিয়াতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের ব্যাপক বদল ঘটেছে৷

রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগেই পুরুলিয়ার বলরামপুরে বিজেপির দলিত নেতা পানো মাহাতোর ছেলে ত্রিলোচন মাহাতোর ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়৷ ত্রিলোচনার গায়ে পোস্টার সেঁটে দেওয়া হয় – বিজেপি রাজনীতি করার জন্যই তার মৃত্যু হয়েছে – লেখা ছিল পোস্টারে৷ অন্যদিকে বলরামপুরের দুলাল কুমারের দেহ হাইটেনশন পোলে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়৷ ওই দুটি ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি৷ বিজেপির অভিযোগের তীর ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে৷