গ্রাফিক্স

সৌমেন শীল, চুঁচুড়া: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেলাম জানিয়ে মালা পড়াতে আগ্রহী বিজেপি শিবির। কেন্দ্রের শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সম্মান অর্জন করতে হলে সাহসের সঙ্গে দক্ষ শাসকের পরিচয় দিতে হবে মমতাকে। সোমবার এমনই দাবি করেছেন বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জয় বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বেশ কয়েকটি হিংসার ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরের দাড়িভিট এলাকায় একটি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে হওয়া হিংসায় প্রাণ গিয়েছে একাধিক ব্যক্তির। যা নিয়ে তোলপার হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। যার রেশ গিয়ে পড়েছে জাতীয় স্তরেও।

আরও পড়ুন: ‘বিজেপির খুনিরা কাপুরুষের মত খুন করেছে আমাদের কর্মীকে’: মানস

বিজেপির ডাকা বাংলা বনধের দিন উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় এক মহিলা বিজেপি কর্মীকে লাথি মারতে দেখা গিয়েছে এক তৃণমূল নেতাকে। এরপরে হুগলী জেলার ধনেখালি এলাকায় গত বৃহস্পতিবার ঘটে গিয়েছে এক লজ্জাজনক ঘটনা। ষাটোর্ধ এক মহিলার মুখে প্রস্রাব করার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

ধনেখালির ঘটনার রেশ এখনও বেশ টাটকা। ওই মহিলার ছেলে হরিভক্ত মণ্ডল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমর্থনে ফেসবুক পোস্ট করাছিল বলে তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তৃণমূল আশ্রিত ওই দুষ্কৃতীরা হরি সহ তাঁর বাবা রঞ্জিত মণ্ডল এবং মা সবিতা মণ্ডলকে বেদম প্রহার করা হয় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: দাড়িভিটের জেরে শিক্ষক নিয়োগে পিছু হঠল রাজ্য সরকার

সবিতা দেবী প্রহারের চোটে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন একটু জল খেতে চাইলে তাঁর মুখে প্রস্রাব করে দেয় হামলাকারীরা। এমনই অভিযোগ করেছে ধনেখালির রামেশ্বরবাটির এই মণ্ডল পরিবার। বর্তমানে ওই পরিবারের সকলেই চুঁচুড়ার ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার থেকেই তাঁরা সপরিবারে এই হাসপাতালে ভরতি।

সোমবার ওই আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চুঁচুড়া গিয়েছিলেন পদ্ম শিবিরের জাতীয় নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। আক্রান্তদের সঙ্গে দেখা করার পরে তিনি বলেন, “বাংলার মাটিতে এমন ঘটনা ভাবা যায় না। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া দরকার।”

আরও পড়ুন: চিনের সঙ্গে স্বপ্নের প্রজেক্টে পিছু হটছে পাকিস্তান

এরপরেই তিনি চেনা কায়দায় ফিরে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণের পথে। জয় বলেন, “বারাসতে রাস্তায় একজন মহিলাকে লাথি মারল এক তৃণমূল নেতা। আর ধনেখালিতে ছেলের বয়সী দু’জন একজন বয়স্ক মহিলার মুখে প্রস্রাব করে দিল। কেউ গ্রেফতার হল না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী তো মোদীকে কোমরে দড়ি পরিয়ে গ্রেফতার করার কথা বলেছিলেন। এখন এই সকল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করুন। আমরা সেলাম জানাব, গিয়ে মালা পড়াব আপনাকে।”

ধনেখালি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি আক্রান্ত পরিবার। সমগ্র বিষয়টি আপসে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: মোদীভক্ত হয়েই থাকতে চান ধনেখালির প্রহৃত হরিভক্ত

এদিন হুগলী অতিরিক্ত জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রি তথা আইনজীবী নাজিয়া এলাহি খান। আক্রান্ত পরিবারের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি করা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে।

যথাযথ ব্যবস্থা দিয়েছেন হুগলীর অতিরিক্ত জেলা শাসক প্রদীপ আচার্য্য। পদ্ম শিবিরের এই দুই নেতানেত্রীই ধনেখালি কাণ্ডে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই জেলার পুলিশ সুপারের কাছে।

আরও পড়ুন: তৈরি হচ্ছে মুকুটমনিপুরের নিজস্ব লোগো!