স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়োজিত নেতাজির জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল৷ এবার সেই অভিযোগ ঘাসফুল শিবিরকে ফিরিয়ে দিল গেরুয়া শিবির৷ শুধু তাই নয়, মেরুকরণ উস্কে তারা বলল, সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কলমা পাঠ করলে দোষ নেই, শুধু জয় শ্রী রাম নিয়েই সমস্যা!

রবিবার বঙ্গ বিজেপি টুইটারে লিখেছে, শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন, প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দিতে ওঠার সময়ও জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু পিসিই একমাত্র তাতে বিরক্ত হলেন৷ সরকারি অনুষ্ঠানে উনি যখন কলমা পাঠ(আরবি ভাষায় লেখা ইসলামিক পংক্তি) করেন তখন কোনও সমস্যা হয় না? শুধু তাঁর সমস্যা জয় শ্রী রাম নিয়ে৷ এটা খুবই দুঃখজনক যে উনি একটি সরকারি অনুষ্ঠানকে মুখ্যমন্ত্রী রাজনীতির পর্যায়ে নিয়ে গেলেন৷

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিবস উপলক্ষে ‘‌পরাক্রম দিবস’‌–এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনেই সৃষ্টি হল এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। শনিবার ভিক্টোরিয়ার অনুষ্ঠান মঞ্চে সবে বক্তব্য শেষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল, পরের বক্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে নেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক। তখনই আচমকা সভায় উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে থেকে উঠে এল ‘‌জয় শ্রী রাম’‌ স্লোগান। আর তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বক্তব্য রাখতে অস্বীকার কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দেন,’কাউকে আমন্ত্রণ করে তাঁকে অসম্মান করা শোভা দেয় না’। তিনি আরও বলেন, ‘‌আমার মনে হয়, সরকারি অনুষ্ঠানের একটা আলাদাই মর্যাদা, সম্ভ্রম থাকে। এটা সরকারি অনুষ্ঠান। কোনও রাজনৈতিক দলের সভা নয়। এটা সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের অনুষ্ঠান।’‌

ভিক্টোরিয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, এটা অসভ্যতার চূড়ান্ত সংস্কৃতির নিদর্শন৷ বাংলার সংস্কৃতি জানে না বলেই এদের বহিরাগত বলা হয়৷ তিনি বলেন, একশ্রেনীর চতুষ্পদ যাঁরা নেতাজির জন্মদিনে জয় শ্রীরাম স্লোগান দিলেন তাঁরা জানেনই না এদিনটা জয় হিন্দ, জয় নেতাজি বলার দিন৷ এটা গুটখা কালচার নয়৷ যা ঘটল তা বহিরাগত অপসংস্কৃতির নিকৃষ্ট নিদর্শন৷ আর বহিরাগত তত্ত্বটা অভিধানগত নয়, স্পিরিটগত সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল৷

বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহানও টুইটারে কড়া বার্তা দেন বিজেপি নেতৃত্বকে। তিনি টুইটের শুরুতে হিন্দিতে লেখেন- আলিঙ্গন করে রামের নাম নিন, গলা টিপে ধরে রাম নাম কীসের? এরপর নুসরত যোগ করেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্লোগান উচ্চারণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি’। সঙ্গে হ্যাশট্যাগে যোগ করেন ‘সেভ বেঙ্গল ফ্রম বিজেপি’৷

পাল্টা বিজেপি নেতা চন্দ্র বসুর মত, ‘জয় শ্রীরাম স্লোগান শুনে মুখ্যমন্ত্রীর এমন আচরণ করা উচিত হয়নি। আজ রাজনীতি করার সময় নয়। আজ উদযাপনের দিন। আজ আজাদ হিন্দ বাহিনীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর দিন।’

তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন,“নেতাজী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, তাঁকে নিয়ে রাজনীতি করব। কারোর বাপের হিম্মত আছে তো আটকাক।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।