তনুজিৎ দাস, কলকাতা: মেলার বদলা মেলা! বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতার চালে এবার তাঁকেই কিস্তিমাত করতে চাইছে নয়াদিল্লির মোদী সরকার৷ রাজ্যে ছ’বছরের শাসনে বিভিন্ন মেলা ও উৎসবকে হাতিয়ার করে তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এবার পশ্চিমবঙ্গেও কেন্দ্রের প্রকল্প ও জনসংযোগে সেই মেলা অস্ত্রকেই ব্যবহার করবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার৷ সেই উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা চষে বেরাতে নয়াদিল্লি থেকে বাংলায় উড়ে আসছেন একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর৷

মোদী সরকারের প্রকল্প গুলির প্রচারে রাজ্যের তিন থেকে চারটি স্থানে মেলার আয়োজন করতে চলেছে কেন্দ্র৷ প্রচারের দায়িত্বে থাকছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ডিরেক্টরেট অফ অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড ভিজুয়াল পাবলিসিটি(ডিএভিপি)৷ মেলার স্থান হিসাবে এখনও পর্যন্ত নাম উঠে আসছে কলকাতা, বহরমপুর ও কুচবিহারের৷ চারদিন ব্যাপী এই মেলার সূচনা হবে আগামী ২২ মে, চলবে ২৫ মে পর্যন্ত৷

সূত্রের খবর, মেলায় উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রের একাধিক হেভিওয়েট মন্ত্রী৷ উপস্থিত থাকার জন্য প্রস্তাব পাঠান হতে পারে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নায়ডু ও একই মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোরকে৷ থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান৷ মেলায় উপস্থিত থাকবেন রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতা-নেত্রী৷

‘কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পকে নিজের নামে চালাচ্ছে রাজ্য’ অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি রাজ্যের মমতা সরকারকে এই গথে বাঁধা সুরেই সম্প্রতি আক্রমণ শানিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রী৷ কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং, মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘জনকল্যাণকর’ প্রকল্প প্রচারকেই বক্তৃতায় বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন তারা৷ এমনকি রাজ্যে এসে দলের নিচু তলার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প প্রচারের কথা বলে গিয়েছেন খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ জনসংযোগের জন্য ‘বিস্তার কর্মসূচী’তে পনেরো দিন করে প্রতিটি বিস্তারককে বাড়ির বাইরে থাকার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন তিনি৷ কেন্দ্রের আয়োজিত এই মেলাকে গেরুয়া শিবিরের ‘ওপেন সিক্রেট’ রাজনীতি বলেও অভিহিত করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক৷ তাদের মতে এর মাধ্যমে আদতে তিনটি কাজ করতে চাইছে মোদী-শাহ জুটি৷ এক, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনকল্যাণকর প্রকল্পের কথা রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার৷ দুই, জনসংযোগ বাড়ান৷ তিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেলা অস্ত্রকে ব্যবহার করে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার রাজনীতি করছেন তারা৷

জানা গিয়েছে, এই মেলায় স্থান পেতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক যোজনা সম্পর্কিত প্রদর্শনি৷ প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা, সুরক্ষা বিমা যোজনা, মুদ্রা যোজনা, অটল পেনশন যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মতো একগুচ্ছ যোজনা স্থান পেতে চলেছে মেলায়৷ সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত জেলাশাসকে প্রেরিত একটি নির্দেশ পত্র সামনে এসেছিল৷ সেখানে পরিষ্কার করে লেখা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের কোন প্রকল্প রাজ্য সরকারের দেওয়া কোন নামে প্রচার করবে জেলা শাসকরা৷ সেখানে দেওয়া ছিল কেন্দ্রীয় প্রকল্প স্বচ্ছ ভারত মিশন হয়ে যাবে রাজ্যের প্রকল্প নির্মল বাংলা, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম-সড়ক যোজনা হয়ে যাবে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনা৷ এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণ রাজ্যে প্রচারিত হবে বাংলার গৃহ প্রকল্প নামে৷ এছাড়া একাধিকবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অভিযোগ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে, রাজ্যকে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্জিত করে প্রতিশোধের রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ মেলার আয়োজন করে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই অস্ত্রকেই ট্যাকফুলি ভোঁতা করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ এমনই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল৷ তাদের মতে, রাজ্যে এসে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা রাজ্যকে দেওয়া কেন্দ্রের বিভিন্ন অনুদানের ফিরিস্তি তুলে ধরেছিলেন৷ এই সমস্ত মেলার মাধ্যমে এবার সেই ফিরিস্তি রাজ্যের সাধারণ মানুষের ঘর পর্যন্চত পৌঁছে দিতে চায় পদ্ম শিবির৷ ফলে আগামী দিনে মেলা মেলা খেলায় যে ঘাসফুল-পদ্মফুল শিবির রাজ্য রাজনীতি গরম করতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ