প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির ঘরোয়া মিটিং ভন্ডুল হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানার অন্তর্গত পানিহাটি পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলা এলাকা। বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে জখম হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন।

এলাকায় বোমাবাজি ও গুলি চালনার অভিযোগ রাজনৈতিক আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও বিধায়ক নির্মল ঘোষ। এই ঘটনার তদন্তে নেমে ঘোলা থানার পুলিশ বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন দিনভর পুলিশি টহল লক্ষ করা গেছে ঘোলার কদমতলা এলাকায়। বিজেপির ঘরোয়া সভা ভন্ডুল করার অভিযোগ।

পানিহাটি পুরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে বেশ কয়েক মাস আগেই। পানিহাটি পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তর কলকাতা শহরতলী জেলার উদ্যোগে বিজেপির দলীয় এক কর্মীর বাড়িতে আলোচনা সভায় বসেছিলেন বিজেপি কর্মীরা। উত্তর কলকাতা শহরতলী জেলার সভাপতি কিশোর করের নেতৃত্বে বিজেপির ওই ঘরোয়া আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল বলেে জানা গিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এই সভা যখন শুরু হয়, বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, সেই সময় ওই ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর রূপালী বিশ্বাসের স্বামী তৃণমূল নেতা অরিন্দম বিশ্বাসের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন তৃণমূল কর্মী এসে বিজেপি কর্মীদের ওই দলীয় মিটিং করতে বাঁধা দেয়। তৃণমূল কর্মীরা ওই বিজেপি কর্মীর বাড়ি ঘিরে ফেলে। এলাকায় তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে ঘোলা থানার পুলিশ গিয়ে ওই বিজেপি কর্মীদের উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীরা এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘোলা থানার সামনে সোদপুর মধ্যমগ্রাম রোডে পথ অবরোধ শুরু করে । ততক্ষনে অসংখ্য বিজেপি কর্মী ঘোলা থানার সামনে জড়ো হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কয়েকশ তৃণমূল কর্মীরাও । পুলিশের সামনেই উভয় রাজনৈতিক দলের কর্মীরা একে অপরের সঙ্গে প্রথমে হাতাহাতি ও পরে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ঘোলা থানার পুলিশ সোদপুর মধ্যমগ্রাম রোডে বিক্ষোভকারী বিজেপি কর্মীদের উপর ব্যপক লাঠিচার্জ করে । হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়ে বেশ কয়েকজন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মী জখম হন।

এই ঘটনার মধ্যেই দুষ্কৃতীরা অন্ধকারে গুলি চালায় ও বোমাবাজি করে বলে অভিযোগ । গোটা ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে সোদপুর মধ্যমগ্রাম রোড এলাকা। ঘটনায় উভয় রাজনৈতিক দলের অন্তত ২০ জন কর্মী জখম হন। এই ঘটনার পর বিজেপি-র উত্তর কলকাতা শহরতলী জেলার সভাপতি কিশোর কর বলেন,”বাংলায় গনতন্ত্র নেই তা আরো একবার প্রমাণিত হল । আমরা আমাদের দলীয় নেতৃত্বকে সব জানিয়েছি । পুলিশ সময়মত না পৌঁছালে আমাদের ওরা হয়ত মেরেই ফেলত । পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করেছে । আমাদের দলীয় নেতৃত্ব যা নির্দেশ দেবে, সেই মত আগামিদিনে আমরা এখানে কর্মসূচি পালন করব ।”

এদিকে এলাকার তৃণমূল নেত্রী রূপালী বিশ্বাসের বক্তব্য, “বিজেপি বাইরে থেকে ২ ম্যাটাডোর ছেলে নিয়ে এসে শান্ত পানিহাটি অশান্ত করতে চেয়েছিল । আমাদের কর্মীরা বাঁধা দেয় । তখন ওরা আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে । আমাদের মহিলা কর্মীদের শরীরে ব্লেড চালায়, আমার স্বামীকে মারধর করে, এমনকি পুলিশকেও পেটায়। বিজেপির এই অত্যাচার আমরা সহ্য করব না ।”

এই ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে মঙ্গলবার পানিহাটি পুরসভার ওই ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য এবং স্থানীয় পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ । চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপি যদি ভেবে থাকে এভাবে বাংলাকে অশান্ত করবে, সেটা তৃণমূল কর্মীরা মানবে না । জীবন দিয়ে তৃণমূল কর্মীরা ওদের দুষ্কৃতী রাজের প্রতিবাদ করবে । আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এর উত্তর দেব ওদের ।”

বিধায়ক নির্মল ঘোষ বলেন, “ওরা আমাদের দলের প্রাক্তন কাউন্সিলর রূপালী বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা করেছে, ওর স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল । আমাদের অন্তত ১০ জন কর্মী জখম হয়েছে । বাংলাকে অশান্ত করতে দেব না । এই অঞ্চলের মাত্র ১৫ জন লোক ছিল, ওদের বেশিরভাগ লোকই বাইরে থেকে এসেছিল । ওরা ব্যারাকপুরে যা করছে ভেবেছে এখানেও করবে । কিন্তু এখানে ওরা যথাযোগ্য মহাঔষধি পাবে । আমি পুলিশকে বলেছি দোষীদের গ্রেফতার করতে । ওরা যখন গত রাতে পালানোর চেষ্টা করে তখন বোমা বাজি করতে করতে পালিয়ে যায় ।” এদিকে এই ঘটনার তদন্তে নেমে ঘোলা থানার পুলিশ বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে । সোমবার রাতের ঘটনার জেরে মঙ্গলবার ও দিনভর উত্তপ্ত ছিল ঘোলা থানা এলাকা । দিনভর পুলিশি টহল ছিল সোদপুর মধ্যমগ্রাম রোডে । তবে আর নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি হয়নি।