নয়াদিল্লি: শুরুটা হয়েছিল রাজীব গান্ধীকে দিয়ে৷ শেষটা হতে চলেছে মহাত্মা গান্ধীর নামে৷ মাঝে শুধু উঠে আসে নাথুরাম গডসের নাম৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে মৃত্যুর বহু বহু বছর পর ফের এই তিন নাম উঠে আসে খবরের শিরোনামে৷ সৌজন্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ৷

রাজীব গান্ধী ‘ভ্রষ্টাচার নম্বর ওয়ান’৷ নাথুরাম গডসে ‘স্বাধীন ভারতের প্রথম হিন্দু সন্ত্রাসবাদী’৷ আর মহাত্মা গান্ধী ‘পাকিস্তানের জাতির জনক’৷ এই তিন মন্তব্যে দেশ জোড়া ঝড় ওঠে প্রবল৷ শেষের মন্তব্যটি বিজেপি মুখপাত্র অনিল সৌমিত্রের৷ এমন মন্তব্যের জন্য নেমে আসে শাস্তির খাঁড়া৷ বাপুকে ‘পাকিস্তানের জাতির জনক’ বলায় দল থেকে তড়িঘড়ি বহিস্কার করা হয় ওই বিজেপি নেতাকে৷

অনিল সৌমিত্র ফেসবুক পোস্টে মহাত্মা গান্ধীকে ‘পাকিস্তানের জাতির জনক’ বলে উল্লেখ করেন৷ লেখেন, গান্ধীর মতো কোটি কোটি মানুষের জন্ম হয়েছে এই দেশে৷ কেউ কেউ কাজের ছাপ রেখে গিয়েছেন৷ কেউ অকর্মণ্য প্রমাণিত হয়েছেন৷

বিজেপি নেতার পোস্টে তুমুল ঝড় ওঠে৷ ভোটের সময় চরম বেকাদায় পড়ে গেরুয়া ব্রিগেড৷ মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি রাকেশ সিং তদন্তের নির্দেশ দেন৷ অভিযুক্ত নেতাকে নির্দেশ দেন সাত দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার৷ তারপর শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত৷

এমন সময় ঘটনাটি ঘটে যখন নাথুরাম গডসেকে নিয়ে আলোড়িত গোটা দেশ৷ বিতর্কের শুরুটা করেন অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া কমল হাসান৷ নাথুরাম গডসেকে ‘স্বাধীন ভারতের প্রথম হিন্দু সন্ত্রাসবাদী’ বলে বসেন৷ তারপর একের পর এক বিজেপি নেতা বাপুর হত্যাকারীর গুণকীর্তন শুরু করেন৷ ভোপালের বিতর্কিত বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা গডসেকে দেশপ্রেমী বলে অভিহিত করেন৷ পরে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে নেন৷

ওই একই দিনে কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ নবীন কাটিল এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘‘গডসে একজনকে খুন করেন৷ আজমল কাসব ৭২ জনকে হত্যা করে৷ আর রাজীব গান্ধী ১৭ হাজার মানুষকে খুন করেন৷ এবার বিচার করুন কে সবথেকে নিষ্ঠুর?’’