বর্ধমান:  আমিও উদ্বাস্তু, আমার পূর্ব পুরুষরাও পাঞ্জাবের শিয়ালকোট থেকে ভারতে এসেছিল। বুধবার বর্ধমানে জনসংযোগ যাত্রার শেষে পারবীরহাটা এলাকায় প্রকাশ্য জনসভায় এনআরসি ও সিএএ-র সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই বললেন বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনের বিজেপি সাংসদ সুরেন্দ্রজিৎ সিং আলুওয়ালিয়া। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতা বিশ্বপ্রিয় রায় চৌধুরী, জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী প্রমুখরাও। এদিন বর্ধমানের পার্কাস রোড থেকে পারবীরহাটা পর্যন্ত অভিনন্দন যাত্রায় হাজির ছিলেন এই নেতৃবৃন্দরাও। এদিনই প্রকাশ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন সুজিত ঘোষ নামে এক নেতা।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন সাংসদ অহলুবালিয়া বলেন, সারা বাংলা জুড়ে একপক্ষ এনআরসি ও সিএএ-র বিরোধিতা করছেন, আর এক পক্ষ সমর্থন করছেন। কিন্তু যাঁরা বিরোধিতা করছেন তাঁরা এই বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অনেকেই জানেন না নাগরকিত্ব সম্পর্কে। এদিন আলুওয়ালিয়া একটি শ্রুতি নাটকের অংশ বিশেষ মোবাইল ফোন থেকে জনতার উদ্দেশ্যে শোনান। এরপরই তিনি বলেন, উদ্বাস্তুদের কি যন্ত্রণা তা তিনি বোঝেন। কারণ তিনিও সেই অর্থে উদ্বাস্তু।

তিনি বলেন, গোটা বিশ্বের সমস্ত দেশেই সুস্পষ্ট নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র আছে। একমাত্র ভারতেই নেই। তিনি বলেন, অনেকেই ভোটার লিষ্টে নাম তোলার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার কার্ডকে ব্যবহার করেন। কিন্তু এগুলির কোনোটিই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।

তিনি বলেন, নাগরকিত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই রাজ্যের সীমান্ত খোলা। তাই ওদিক থেকে অনেকেই অপরাধ করে এখানে চলে আসেন। আবার তাদের দিয়েই নানারকম অপরাধ করায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের স্বার্থে। তিনি বলেন, মোদিজী গত ৫ বছরে গোটা পদ্ধতিকে সরলীকরণ করতে চাইছেন। আলুওয়ালিয়া এদিন বলেন, দেশের নাগরিক কত – না জানেন মোদিজী, না জানেন দিদি। তাই দেশের নাগরিকের সংখ্যা না জানলে বাজেট বরাদ্দ হবে কিভাবে। এদিন তিনি বলেন, দিদি বলছেন সিএএ মানবেন না। কিন্তু তাঁকে এটা মানতেই হবে। আজ না হয় কাল মানতেই হবে।