সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় , কলকাতা : বিরাট এ পাড়ায় ছয় মারেন , ওপাড়ায় গিয়ে বল পড়ে। পরের জায়গায় দাদাগিরি দেখানোর ইচ্ছা বিরাট কোহলির আগ্রাসনের প্রকাশ। অনেকটা সেরকম চেষ্টাই করল বিজেপির লালবাজার অভিযানে আশা কিছু বিজেপি সমর্থক। বিরাট সাজে এসে তারা মুখ্যমন্ত্রীকে ছক্কা মেরে অন্য ‘পাড়ায়’ পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বললেন।

বিরাটের সাজে এসেছিলেন একজন কিন্তু তার সঙ্গ দিতে হাজির ছিল অন্তত জনা কুড়ি তরুণ বিজেপি সমর্থক। তারা সবাই বিরাটের খেলার ভক্ত তা স্পষ্ট তাদের কথাতেই। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড লালবাজার অভিযান। ব্যাট হাতে সেখানে ভারত অধিনায়ক সাজার চেষ্টার কারন কি ? সবাই একসঙ্গে বলতে যাচ্ছিলেন। পরে বিরাটরুপী বিজেপি সমর্থক নিজেই বললেন, “কোহলি যেমন খেলে ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তেমনই আমাদেরও উদ্দেশ্য আমরা পশ্চিমবাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই আর তৃণমূল যে পার্টিটা আছে সেটাকে ছয় মেরে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া করতে চাই।”

ছবি – মিতুল দাস

পাশ থেকে অন্য এক যুবক চলে এসে নিজে থেকেই বলতে শুরু কর দিলেন। বললেন , “আমরা সবাই বসিরহাটের হারোয়া মণ্ডল থেকে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, যে পরিমাণ সন্ত্রাস তৈরি হচ্ছে সেটা সবাই দেখতেই পাচ্ছে। এবার বিরাট যেমন ওঁর খেলার মাধ্যমে বিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে দেশকে জেতাচ্ছে তেননই আমরা চাইছি যে সন্ত্রাসকে ব্যাটের মাধ্যমে উড়িয়ে দিতে। আমাদের এলাকায় শাহজাহান শেখ যে পরিমাণ সন্ত্রাস তৈরি করেছে সেটাকে আমরা সরাতে চাইছি। সন্ত্রাসকে সরিয়ে দেওয়ার প্রতীকী অস্ত্র ব্যাট। সেই ব্যাটের মাধ্যমে তৃণমূল সুপ্রিমোকে ওনার সন্ত্রাসকে ছয় মেরে পাঠিয়ে দেব একদম পাকিস্তানে।” বলা যেতে পারে লালবাজারে বিরাট এফেক্ট।

প্রসঙ্গত এদিন বিজেপির লালবাজার অভিযানকে কেন্দ্র করে বুধবার রণক্ষেত্র অবস্থা হয় কলকাতার৷ কৈলাস বিজয়বর্গীয়র নেতৃত্বে লালবাজারের দিকে এগিয়ে যায় মিছিল৷ মিছিল আটকাতে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে মোতায়েন করা ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী৷ ছিল জলকামান৷ জানা গিয়েছে, বৌ বাজার এবং সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ক্রসিং দিয়ে লালবাজারের দিকে যাওয়ার চেষ্টা চলে৷ এরপর ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। ব্যারিকেডে আছড়ে পড়ে বিজেপি কর্মীরা৷ শুরু হয় পুলিশ-বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতি৷ পুলিশ আর অপেক্ষা করেনি৷ বাধ্য হয়ে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে হয়। জলকামান দিয়ে এই মিছিলকে আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ৷ এরপর অভিযান স্থগিত করে দেয় বিজেপি।