স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : একদিকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যখন ক্রমবিবর্ধমান, অন্যদিকে তখন আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি,ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।তারই মাঝে একুশের বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। জনসংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহসম্পর্ক অভিযানে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছেন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্যস্তরের নেতারা। শনিবার দুপুরে উলুবেড়িয়ায় গৃহ সম্পর্ক অভিযানে অংশ নেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা।

তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে উলুবেড়িয়ার বাণীবন অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে মোদী সরকারের কর্মকান্ডের বার্তা তুলে ধরেন।কেন্দ্রীয় সরকারের বিগত বছরের সাফল্য সমন্বিত লিফলেট বিলি করেন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে।পাশাপাশি,উলুবেড়িয়ায় হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল সিনহা।রাহুল সিনহার পাশাপাশি আজকের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া গ্রামীণ জেলার বি জে পি সভাপতি শিবশঙ্কর বেজ, সাধারণ সম্পাদক প্রত্যুষ মন্ডল সহ অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ।

এদিকে পাঁচলা পঞ্চায়েতের প্রধান সেখ মুজিবর রহমানের একটি চিঠিতে অভিযোগ করেছেন,”পাঁচলা ব্লকের পাঁচলা পঞ্চায়েত এলাকার যেসমস্ত মানুষের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে তার বেশিরভাগ মানুষই বিত্তশালী ও প্রভাবশালী।” তাঁর আরও অভিযোগ,”তালিকাভুক্ত ৮০% মানুষের আম্ফানে কোনো ক্ষতিই হয়নি। সম্পূর্ণ তালিকাটি ভুল। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম তালিকায় নেই।” উল্লেখ্য,আমফান ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা মূলত পঞ্চায়েতই তৈরি করে। যদিও,কিছু জায়গায় পঞ্চায়েত সমিতিও এই তালিকা প্রস্তুতির কাজ করে। সূত্রের খবর,পাঁচলা পঞ্চায়েত এলাকায় ১১৭ জনের নাম ক্ষতিপূরণ প্রাপকের তালিকায় রয়েছে।অভিযোগ,এদের বেশিরভাগই প্রভাবশালী নয়ত শাসকশিবির ঘনিষ্ঠ।

প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা কেন বারাবার ব্রাত্য থেকে যাচ্ছেন,এই ভুয়ো তালিকা তৈরির দায় কার,তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন—এখন তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে।

ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে বরাবর সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমফান ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি হলে এবার ব্যবস্থা নেবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী, ত্রাণ নিয়ে এমনই কড়া অবস্থানের কথা নিজেই জানান মমতা। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানান ‘ত্রাণ নিয়ে কোনও গরমিল দেখলে থানাকে জানান, অভিযোগ সঠিক হলে আমি নিজে ব্যবস্থা নেব।’

আমফানে বিধস্ত রাজ্যের আট জেলায় বহু ক্ষেত্রে ত্রাণ বণ্টন নিয়ে সরব বিরোধী শিবির। এবার তাই সরাসরি থানায় নালিশ করার নিদান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে ত্রাণ নিয়ে বিলি বন্দোবস্তের মূল দায়িত্ব প্রশাসনকেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, ত্রাণ বিলি নিয়ে যা করার সরকারই করবে৷ এ নিয়ে দলীয় কোনও হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না৷

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব