দেবময় ঘোষ, কলকাতা: উৎসবের মরসুমে তৃণমূল কংগ্রেস সংসদ নুসরত জাহানকেই রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে ফেলেছে বিজেপি। তৃণমূলের এই অভিনেত্রী সাংসদকে কিছু ধর্মীয় মৌলবাদীরা নিশানা করেছেন। কিন্তু, নুসরতের দল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে অদ্ভূত নিশ্চুপ। এই বিষয়টিকে হালকা ভাবে ছেড়ে না দিয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে তৈরি বিজেপি।

নুসরত মুসলমান হলেও নিখিল জৈন নামে এক জৈন ধর্মাবলম্বীকে বিয়ে করেছেন। তাঁকে প্রায়ই শাঁখা-সিঁদুর পরিহিত হিন্দু রমণীর মতো দেখা যায়। দুর্গা পুজো মণ্ডপে তাকে স্বামীর সঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দিতে দেখা গিয়েছে। তবে, এই সব ঘটনার পর তাঁর বিরুদ্ধে মৌলবাদী সংগঠনগুলির তরফ থেকে হুমকিও এসেছে। কিন্তু দমিয়ে রাখা যায়নি নুসরাতকে। শুক্রবার চালতাবাগানে নুসরতকে সিঁদুর খেলতে দেখা গিয়েছে। লাল সিঁদুরে মাথা এবং মুখ রাঙিয়েছেন সুন্দরী নুসরত। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপি নেত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন।

দেবশ্রী বলেছিলেন, নুসরাতের পাশে তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ দাঁড়ায় না। দেবশ্রী যে প্রশ্ন তুলেছেন, সেই প্রশ্নে একটি ইঙ্গিত ছিল। নিজের দলের সাংসদকে যখন মৌলবাদীরা হুমকি দিচ্ছে, তখন তৃণমূল নীরব কেন তা জানতে চেয়েছেন বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহাও। বিজেপির অন্দরের খবর, এই ইস্যুটিকে বড় করে সামনে আনতে চাইছে বিজেপি। রাহুল শুক্রবার বলেন, “তৃণমূল মানবাধিকারের কথা বলে। ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলে। নুসরত জাহানের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। অথচ এই ক্ষেত্রে তারা মৌন? তোষামোদ রাজনীতি কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছে গিয়েছে এইটাই তার প্রমান।”

রাহুল আরও বলেন, “অনেক সময় অনেকেই ধর্মান্তরিত হন। আবার এক্ষেত্রে নুসরত নিজের খুশিতে হিন্দু সংস্কারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছে। কিন্তু, তাঁর ধর্মীয় স্বাধীনতায় কেন হস্তক্ষেপ করা হলো? একজন মহিলার সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলো, তৃণমূল কিছু বলল না। আর থেকে বোঝা যাচ্ছে করা সাম্প্রদায়িক। কারা ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করছে। ধর্মের রাজনীতির মাঝে মহিলার সম্মান কিছুই নয়।”