স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য বিজেপিতে ৭৭ লাখেরও বেশি সদস্য যোগদান করেছেন। বুধবার বিজেপির সদস্যতা অভিযান শেষ হয়েছে। দেখা গিয়েছে, সারা দেশে পশ্চিমবঙ্গেই সব থেকে বেশি সদস্য করতে পেরেছে বিজেপি। জলপাইগুড়ি জেলা সদস্য সংখ্যায় সব থেকে প্রথম। অন্তত , ৫-৬ টি জেলা লক্ষ্য মাত্রার ৫০ শতাংশরও বেশি সদস্য করতে পেরেছে।

বর্তমানে বিজেপির সক্রিয় সদস্য বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে সদস্য বৃদ্ধির কাজ এখানেই থামাতে চায়না বিজেপি। কারণ সর্ব ভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যকে সদস্যতা অভিযান ডিসেম্বর পর্যন্ত চালাতে নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে কেরল, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, অসম, ত্রিপুরা এবং বেশ কিছু রাজ্যে চলবে।

বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, “যা ভাবা গিয়েছিল, যার থেকেও বেশি ভালো ফল হয়েছে।” অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, সদস্যতা অভিযানকে তৃণমূল নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। কার্যকর্তাদের মারধর করেছে, ভয় দেখিয়েছে। আরও ভালো হতে পারত।

বিজেপি সূত্রে খবর, পার্টি ৭৭ লাখে থেমে যেতে চাইছে না। রাহুল সিনহা বিলীন, “আমাদের লক্ষ্য ১ কোটি।” বিজেপির অন্তর্দলীয় নির্বাচনে নতুন সদস্যরা (২০ অগস্ট পর্যন্ত যারা সদস্য হয়েছেন,) তারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

২০২১ সালে পার্টির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের লড়াই করবে বিজেপি। সেই লড়াই শুরুর আগেই রাজ্য পার্টির অন্দরেই সংগঠত হবে অন্তর্দলীয় নির্বাচন। ওই নির্বাচনেই স্থির হয়ে যাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি কে হবেন। সভাপতি হিসাবে দিলীপ ঘোষ-ই থেকে যাবেন, নাকি দিলীপের জায়গায় আসবেন নতুন কোনও মুখ।

ইতিমধ্যেই বিজেপির কেন্দ্রীয় পার্টি থেকে জাতীয় নির্বাচন আধিকারিক হিসাবে মনোনীত হয়েছেন রাধামোহন সিং। দেশের প্রতিটি রাজ্যেই বিজেপির অন্তর্দলীয় নির্বাচন পদ্ধতি শুরু হওয়ার পথে।

সূত্রের খবর, ১১ সেপ্টেম্বর থেকে বিজেপির অন্তর্দলীয় নির্বাচন পক্রিয়া শুরু হবে। বুথ সভাপতি, বুথ কমিটি, মণ্ডল সভাপতি, জেলা সভাপতির নির্বাচন হবে প্রথমে। তারপর, শুরু হবে, রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের কাজ। এবং, এর সঙ্গেই রাজ্য থেকে বিজেপির ন্যাশনাল কাউন্সিল বা জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচনও একই ভাবে চলবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে নির্বাচনী অফিসার হয়েছেন প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়।