সুমন বটব্যাল, কলকাতা: ঘড়ির কাঁটায় ১টা ২৮মিনিট৷ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তিনি নামতেই থিক থিকে ভিড়টা ছেঁকে ধরল তাঁকে৷ ততক্ষণে কলকাতা বিমান বন্দর কার্যত বিজেপি কর্মীদের দখলে চলে গিয়েছে৷ বিমানবন্দর থেকে গাড়ি অব্দি বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে নিয়ে যেতে রীতিমতো হিমশিম খেলেন নিরাপত্তা রক্ষীরা৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কোনও নেতাকে ঘিরে বঙ্গ বিজেপি শেষ কবে এমন উন্মাদনা দেখেছে? মনে করতে পারছেন না রাজ্য রাজনীতির অভিজ্ঞ কারবারিরাও৷

ওই মহলের সাফ কথা, এতদিনে বঙ্গে যোগ্য নেতা পেল বিজেপি৷ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বঙ্গে তৃণমূল তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার মতো যোগ্য নেতার অভাব ছিল বিজেপিতে৷ মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদান করায় বঙ্গ বিজেপির সেই অভাব ঘুচলো৷ বিজেপি-র কেন্দ্রীয় স্তরের এক নেতার অকপট স্বীকারোক্তি, ‘‘দিলীপ ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়ো কিংবা রাহুল সিনহা- রাজ্য ব্যাপী একক উদ্যোগে সংগঠন বিস্তার করার মতো অভিজ্ঞতা এঁদের কারও নেই৷ সেই দিক থেকে সিপিএমের শক্তঘাঁটিতে রীতিমতো চোখে চোখ রেখেই সংগঠনের ভীত গড়েছেন মুকুল রায়৷ স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার করার কোনও জায়গাই নেই৷’’

ওই নেতার আরও সংযোজন, ‘‘রাজ্যের প্রতিটি প্রান্ত হাতের তালু মতো চেনা মুকুল রায়ের৷ শুধু তাই নয় প্রত্যেকটি এলাকায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যা যথেষ্ট ইর্ষনীয়৷ উনি দক্ষ সংগঠকও৷ ফলে ওঁনার হাত ধরে রাজ্যে বিজেপি-র উত্থান এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা৷’’ নাম প্রকাশ করব না এই শর্তে তৃণমূলের রাজ্যস্তরের এক নেতা তথা মমতার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্যের মন্তব্য, ‘‘রাজ্যে বামেদের পতনের মূলে ছিল সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আর জঙ্গলমহলের ঘটনা৷ তিনটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মুকুলদা৷ দলটাকে উনি নিজের হাতে গড়েছিলেন৷ নীচুতলার

কর্মীদের সঙ্গে ওঁনার নিবিড় সম্পর্কই এরাজ্যে বিজেপির উত্থানের ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করবে৷’’
স্বভাবতই, রাজধানী থেকে ফেরার পরই মুকুল বন্দনায় মেতেছেন তাঁরই অনুগামীরা৷ ফারাক একটাই, এতদিন যাঁরা ঘাসফুলের পতাকা হাতে ঘুরতেন, এখনও তাঁকে ঘিরে রয়েছেন তাঁরাই৷ শুধু পাল্টে গিয়েছে সেই মানুষগুলোর হাতের পতাকা৷ ঘাসফুলের পরিবর্তে এখন তাঁদের হাতে শোভা পাচ্ছে পদ্ম! স্বভাবতই, বিজেপি নেতা মুকুল রায় বাংলার মাটিতে পা দিতেই সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা৷ তবে ঘাসফুলে ভরা বাংলায় মুকুল রায়ের হাত ধরে সত্যি পদ্মের জোয়ার আসবে কি না, সময়েই মিলবে তার সদুত্তর৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।