কলকাতা: নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কনভয়ে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের কাছ থেকে মঙ্গলবারের ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন৷ ঘটনার একদিন পরে, বুধবার সকালে বিজেপির একটি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিবরণ দেবেন৷

এই ঘটনার পর দিলীপ ঘোষ বা অন্যান্য বিজেপি নেতার নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হতে পারে সেই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে আলোচনা করতে যাবেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এবং নির্বাচন ম্যানেজমেন্ট সেলের সদস্য শিশির বাজোরিয়া৷

কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের খেজুরির কুলথা বাজারের কাছে এই ঘটনা ঘটে৷ ওই জায়গায় শুধু রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের গাড়ি ভাঙচূর করাই হয়নি, তিনজন বিজেপি কার্যকর্তাকে ঘটনাস্থল খেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ রাতে খেজুরির জনকা অঞ্চলের লালমোহন মাইতি নামে এক বিজেপি নেতাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়৷ বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী ওই নেতার চুল দাড়ি কেটে নিয়েছে৷ তাকে বেধরক মারধর করা হয়েছে৷ প্রায় একই অভিযোগ করেছেন অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও৷ দিলীপ ঘোষের সঙ্গে জনসভায় তিনিও ছিলেন৷ ঘটনা নিজের চোখেই পর্যবেক্ষণ করেছেন অসমের এই মন্ত্রী৷ পরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যুইটারে ট্যাগ করে বিষয়টি নিয়ে ধিক্কার জানিয়েছেন তিনি৷

কনভয়ে দুটি গাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ট্যুইটারে হিমন্ত জানিয়েছেন, সিআরপিএফ তাঁদের ওই জায়গা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়৷ কিন্তু বিজেপি কর্মীদের অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ দুষ্কৃতিরা ২০টি মোটরবাইক ভাঙচূর করেন৷ পরে বিজেপি মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয় ২৭টি মোটর বাইক ভাঙচূর করা হয়েছে৷ মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে৷ প্রসঙ্গত, ওই ঘটনার পর কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারি বলেন, ওরা (বিজেপি) পায়ে পা-দিয়ে ঝগড়া করতে এসেছিল৷

মেদিনীপুর থেকে দিলীপ ঘোষ লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন৷ তার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মানস রঞ্জন ভুঁইয়া৷ রাজনৈতিক মহলের মতে. লড়াই জমে গিয়েছে৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়েছে৷ ওই নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া থেকে ভালো ফলাফল করেছে বিজেপি৷ ওই ঘটানর জেরে জঙ্গলমহলের নেতৃত্ব রদবদল করতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ সেক্ষেত্রে বিজেপির মতো তৃণমূলও জঙ্গলমহলের ফের দখল নিতে লড়াই করছে৷ মঙ্গলবার, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যে তিনটি সভা করেছেন৷ তারপরেই এই ঘটনা ঘটেছে৷