স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হাইকোর্টে বিজেপির রথযাত্রা মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ৷ অপেক্ষা মামলার রায়ের৷ বৃহস্পতিবার সকালে মামলার শুনানিতে রাজ্য ও বিজেপির বক্তব্য শোনেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী৷ প্রায় ৫৪ মিনিট ধরে আদালতে সওয়াল করেন বিজেপির আইনজীবী৷ পালটা প্রায় ৩৮ মিনিট ধরে বলেন রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত৷

ওই সওয়াল জবাবের অংশ বিশেষ…

বিজেপির আইনজীবী এস এস কাপুর আদালতে জানান,  ১৯৯৩ সাল থেকে একাধিক বার বিজেপিকে সভা, সমাবেশ, মিছিলের  অনুমতির জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় এবং কলকাতা হাই কোর্টের একের পর এক রায় দেখিয়ে আদালতকে বোঝানোর চেষ্টা করেন আইনজীবী কাপুর৷ বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আদালত নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

বলতে উটে সংবিধানের ১৯ নাম্বর ধারার প্রসঙ্গ টানের বিজেপির আইনজীবী৷ তিনি বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যদি খর্ব হয় তাহলে তারা প্রতিবাদ করতেই পারেন। সেই প্রতিবাদের অধিকারের ওপর কেউ জোর করে আইন দেখিয়ে মিছিল মিটিং বন্ধ করতে পারেন না। অধিকারের জন্য মিছিল মিটিং বন্ধ অধিকার পুলিশের কোন অধিকার নেই। কারণ পুলিশ কোথাও বলেনি যে সংশ্লিষ্ট জায়গাতে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে৷

বিজেপির আইনজীবী বিচারপতি শ্যামল সেন, বিচারপতি নিশিতা মাত্রে এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের একাধিক রায়ের কথা বলেন৷ বিজেপি কে মিছিল মিটিং সমাবেশ করার অনুমতি আইন শৃঙ্খলার দোহাই দেখিয়ে প্রথমে রাজ্য করতে দেয়নি৷ পরে অথচ হাইকোর্টের বিচারপতিরা নির্দেশে তা হয়৷ এবং সুষ্ট ভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের গরু নিধনের ওপর নিষেধজ্ঞা জারি করলেও আদালত সরকারের পক্ষে রায় দেইনি।
মিছিলের পক্ষে একধিক রেফারেন্স তুলে ধরেন এস এস কাপুর।

বিজেপির তরফে বলা হয়, রাজ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হবে এসব কথা মুখে রাজ্য সরকার বললে হবে না, তার জন্য সঠিক ব্যাখ্যা এবং তথ্য দিতে হবে। আইনি ব্যাখ্যা ও দিতে হবে। লালবাজারের তিন জন মুখে বলে দিলেন মিছিলের কোন অনুমতি দেওয়া যাবে না। সংবিধানের ১৯ এর এ, বি, সি পুরো ব্যাখ্যা দিতে হবে।

পালটা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, জনসভা এবং মিছিল দু’টো আলাদা বিষয়। মিছিলের ক্ষেত্রে প্রশসনকে অনেক সজাগ থাকতে হয়। কি নিয়ে মিছিল, তার বিষয় বস্তু কি? এই মিছিল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে কি প্রভাব পড়তে পারে সবটাই দেখার দ্বায়িত্ব রাজ্য প্রশসনের।

অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বিজেপির আইনজীবী এস এস কাপুরের রাজ্যের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন তার পরিপেক্ষিতে এজি বলেন, যে রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে সেটা বিচারপতি খতিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন কেন, কি কারণে রাজ্য সরকার এই রথ যাত্রার অনুমতি দিতে চাইছে না। সুপ্রিম কোর্টের রায় তুলে ধরে বলেন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখাই প্রধান কাজ। মানুষের স্বর্থ বিঘ্নিত হয় এমন কাজ তাদের সরকার করবেন না।

২২,২৪,২৬শে ডিসেম্বর বিজেপির মিছিলের যেকোনও একদিনে ১৫০০ জন কর্মী সমর্থক মিছিলে হাঁটবেন দ্বিতীয় দিনে সেটা বেড়ে দাঁড়াবে ৩০০০ এবং শেষ দিন সেই সংখ্যা হবে ৪৫০০ জন। এত বড় মিছিল কি ভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব? আর মিছিল থেকে যে কোনও ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য হবে না তারও কোন নিশ্চতা নেই। তাই কোন মতেই মিছিলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়বলে এদিও আদালতে জানান এজি৷

 শনানি শেষ৷ রথের চাকা গড়াবে কী? এখন রায়ের অপেক্ষায় গেরুয়া শিবির৷