তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া)ঃ রেল পথের সঙ্গে দক্ষিণ বাঁকুড়াকে যুক্ত ও জেলা থেকে নির্বাচিত বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকারকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করার দাবী তুলল জঙ্গলমহল। রবিবার সারেঙ্গায় বিজেপির উদ্যোগে বিজয় মিছিল থেকে এই দাবীতে সরব হন দলীয় নেতা কর্মীরা। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার দুই কেন্দ্র শাসক দলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই প্রথম বাঁকুড়া থেকে কোন বিজেপি সাংসদ সংসদের অলিন্দে পা রাখার সুযোগ পেলেন।

এদিন সারেঙ্গা বিজেপির পার্টি অফিস থেকে বিজয় মিছিল শুরু হয়ে সারা বাজার পরিক্রমা করে। মিছিলে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক অংশ নিয়ে গেরুয়া আবির মেখে অকাল হোলিতে মেতে উঠলেন। বিভিন্ন ধরণের বাদ্য যন্ত্রের তালে দলীয় পতাকা ও নরেন্দ্র মোদীর ছবি নিয়ে নাচার পাশাপাশি মুহুর্মুহু ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বণীতে সরব হলেন তারা। একই সঙ্গে বিজয় মিছিল থেকেই পথ চলতি মানুষদের মধ্যে চললো দেদার লাড্ডু বিলি।

উল্লেখ্য, রেল পরিষেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত জেলার দক্ষিণাংশ। এখনও এই এলাকার মানুষের যাতায়তের অন্যতম ভরসা বেসরকারী যানবাহন। বেশ কয়েকটি রুটে সরকারী বাস পরিষেবা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ইউ.পি.এ সরকারের আমলে সিপিএম সাংসদ ও তৎকালীন রেলওয়ে স্ট্যাণ্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান বাসুদেব আচারিয়ার উদ্যোগে ছাতনা-মুকুটমনিপুর রেল লাইন তৈরীর প্রস্তাব গৃহীত হয়। বেশ কিছু অংশের জমি অধিগ্রহণের পর প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তা একেবারে থমকে আছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রে যখন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও জেলার বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর দুই লোকসভা আসনও ওই দলের দখলে তখন ফের দক্ষিণ বাঁকুড়া তথা জঙ্গল মহলের মানুষ রেল যোগাযোগ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সাধারণ মানুষের সেই দাবীই এদিন জোরালো হলো সারেঙ্গায় বিজেপির বিজয় মিছিলে।

এদিন দলের বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে সারেঙ্গা ব্লক এলাকার বাসিন্দা ও বাঁকুড়া জেলা বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু হাঁসদা বলেন, বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম-মুকুটমনিপুর রেললাইন স্থাপনের দাবী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ জানিয়ে আসছেন। সেই দাবীর বাস্তব রুপ দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে বাঁকুড়ার নবনির্বাচিত সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকারকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দায়িত্বভার দেওয়া হোক তা জেলার মানুষ চাইছেন বলেও তিনি জানান।