নয়াদিল্লি: বিজেপির সিদ্ধান্তে গভীর জটে পিডিপি৷ মঙ্গলবার জম্মু-কাশ্মীর সরকারের উপর থেকে বিজেপির সমর্থন তুলে নেওয়ার ঘোষণায় কার্যত হতবাক মেহেবুবা মুফতি৷ পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল যে,উপত্যকায় যো কোনও মুহূর্তে জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন৷ বিজেপির সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে৷

কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ জানাচ্ছেন, বিজেপির এই সিদ্ধান্তে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন উপত্যকাবাসী৷ গত তিন বছরে বিজেপি শাসনে সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে জম্মু-কাশ্মীরে৷ ভূস্বর্গকে ধ্বংস করছে মোদী সরকার বলে মনে করছেন আজাদ৷ অবশ্য, বিজেপি সরলেও পিডিপির সঙ্গে জোট করবে না কংগ্রেস বলে সাফ জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা৷ অন্যদিকে, বিজেপি-পিডিপি জোট প্রথম থেকেই অগণতান্ত্রিক বলে দাবি শিবসেনার৷ শিবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, পিডিপি-বিজেপি জোট টিকে গেলে ২০১৯-এর লোকসভায় বিজেপিকেই জবাব দিতে হত৷ তাই বিজেপি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছে শিবসেনা৷

বিজেপির সঙ্গে সরকার চালাতে চেষ্টা করেছিল পিডিপি৷ কিন্তু বিজেপির এই সিদ্ধান্ত আলোচনারও জায়গা রাখেনি বলে মত পিডিপি-র রফি আহমেদের৷ তিনি জানাচ্ছেন, বিজেপির সিদ্ধান্তে হতবাক পিডিপি৷ কোনওরকম আগাম বার্তা না দিয়েই বিজেপি সমর্থন তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ অন্যদিকে পিডিপির সঙ্গে বৈঠকের পরই মুখ খোলার কথা জানিয়েছেন পিডিপি নেচা নিম আখতার৷

সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বজায় রেখে রাজ্য চালাতে চেয়েছিলেন মেহবুবা মুফতি৷ যা বিজেপি মেনে নেয়নি ৷ পাক সেনা সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে বার বার হামলা চালাচ্ছে, উপত্যকায় দফায় দফায় হামলা জঙ্গি হামলা চলছে৷ এই পরিস্থিতি সংঘর্ষবিরতি বজায় রাখা মানে জঙ্গি কার্যকলাপকে ইন্ধন দেওয়া বলে মনে করছে বিজেপি৷ সবমিলিয়ে বিজেপির মারাত্মক রোষেই পড়ে মুফতি সরকার৷ হাওয়ায় পাল দেয় সাংবাদিক সুজাত বুখারি ও সেনা ঔরঙ্গজেবের খুনের ঘটনা৷ সমর্থন তুললেও উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে তৎপর থাকবে সেনা বলে জানিয়েছেন বিজেপির রাম মাধব৷

বিজেপির সিদ্ধান্তের পরই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন মেহবুবা মুফতি৷ জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল এন এন ভোরার কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ৷ মুফতির পরই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন ওমর আবদুল্লা৷ পিডিপি-বিজেপি জোট ভাঙন নিয়ে ওমর আবদুল্লা মুখ না খুললেও রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত কি না, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷