স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের অভিযোগে অবশেষে ইস্তফা দিলেন দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি সভাপতি সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলীপ ঘোষের কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠালেন তিনি। সোমনাথের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

গত সপ্তাহের বুধবার সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হরিদেবপুর থানায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপির টিচার সেলের এক মহিলা সদস্য।

ওই মহিলার অভিযোগ ছিল যে, তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই নিউ আলিপুরের জ্যোতিষ রায় রোডের বাসিন্দা সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্ক তৈরি করেন তাঁর সঙ্গে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে সহবাসও করেন ওই বিজেপি নেতা। ধর্ষণও করেছেন বলে অভিযোগ।

হরিদেবপুর থানা এলাকার মতিলাল গুপ্ত রোডের বাসিন্দা অভিযোগকারিণী ওই মহিলার দাবি, ২০১৫ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করার পরই সোমনাথ বাবু সঙ্গে তার পরিচয় এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দুজনের মধ্যে। অভিযোগ, তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি দলের উচ্চ নেতৃত্বর কাছে তার নাম সুপারিশ করে নিজের প্রভাব খাটিয়ে উচ্চপদ পাইয়ে দেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

প্রতিশ্রুতি মতো বিজেপির শিক্ষক সেলের কনভেনার পদেও বসানো হয়েছিল তাকে। যদিও বছর দুয়েকের মধ্যেই জেলা সভাপতির সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা জানাজানি হতেই, তাকে ওই পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাপ দেওয়া হয় বলেও দাবী অভিযোগকারিণীর।

ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। যা ফেরত চাইতেই হুমকির মুখে পড়তে হয় অভিযোগকারিণীকে। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিতেই পুরোপুরি বেঁকে বসে সোমনাথ। একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনও লাভ হয় না। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

সোমনাথবাবুর দাবি, তাঁর নামে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পদত্যাগ পত্রে সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু পার্টিতে আমি রয়েছি, তাই এখন পদত্যাগ করছি। যাতে পার্টির বদনাম না হয়।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ