তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া : ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দখল যখন বিজেপির অন্যতম মূল লক্ষ্য, ঠিক তখনই দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র ও ছাতনা মণ্ডল-৩ সভাপতি সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডুর দ্বৈরথ প্রকাশ্যে চলে এলো। বিবেকানন্দ পাত্র-সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডুর কথোপকথনের আট মিনিট দু’সেকেণ্ডের একটি অডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। যা নিয়ে জেলা বিজেপির অন্দরমহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঐ অডিওতে বিজেপি বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডুকে ছাতনা মণ্ডল-৩ সভাপতির পদ থেকে সরানোর হুমকি যেমন শোনা যাচ্ছে, তেমনি তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে ‘কোন শা* সরাতে পারবেনা’ বলেও দাবি করেন।

একই সঙ্গে দু’জনের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের মাঝে জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রকে সদ্য বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য সহ সভাপতি সৌগত পাত্রের নাম করে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘ওকে আমার জেলায় কোনও কাজ করতে দেবোনা’। সৌমিত্র খাঁ আমার অনুমতি না নিয়ে ওকে ঐ পদে বসিয়েছে।

সৌমিত্র ‘এম.পি মানেই আমি ওর চামচা নই’। ওর শরীর থেকে এখনও টি.এম.সি-র গন্ধ যায়নি। ও বিজেপির কি নীতি আদর্শ মেনে কাজ করে বলেও প্রশ্ন তোলেন বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি। একই সঙ্গে তার জেলায় ‘অস্থিরতা’ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলেও তার দাবি। এরপরেই দলের রাঢ় বঙ্গ জোন কনভেনর পার্থ কুণ্ডু ও রাজ্য যুব মোর্চার সহ সভাপতি সৌগত পাত্রকে তিনি তার লোমের যোগ্য মনে মনে করেননা বলে দাবি করেন।

বিজেপির দুই শীর্ষ নেতার অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভাইরাল’ হওয়ার পর দলের ছাতনা মণ্ডল-৩ সভাপতি সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়েছে। পার্টির গাইড লাইন মেনে কিছু বলা যাবেনা। তবে জেলা সভাপতির সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের বিষয়টি তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন বলে জানান।

এবিষয়ে বিজেপি বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রের বক্তব্য ‘ধমকেছি। ভাইরাল হয়ে ভালোই হয়েছে। যে সমস্ত নেতা বদমাইশি করছে তাদের ধমকেছি’। তাঁর কুরুচিকর মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শা* শব্দটি বেরিয়ে গেছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার…। এভাবে পুরো কথা শেষ না করে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার ফ্রেম ছেড়ে বেরিয়ে যান বিজেপি জেলা সভাপতি।

বিষয়টি ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ বলে দাবি তৃণমূলের। দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, এধরণের ঘটনা আরো ঘটবে। বিজেপি আরও অস্বস্তিতে পড়বে। আর এই ঘটনা বিজেপি যে গোষ্ঠীদ্বন্দে জর্জরিত তা প্রমাণ করে বলেই তিনি জানান।

বিষয়টি ‘গোষ্ঠি দ্বন্দ নয়, দলের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। দাবি বিজেপি রাঢ় বঙ্গ জোন কনভেনর পার্থ কুণ্ডুর। তিনি আরো বলেন, এবিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। দল চিন্তাভাবনা করবে বলে তিনি জানান।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।