মানব গুহ ও তনুজিৎ দাস, কলকাতা : কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলতে চায় বিজেপি৷

তাই মমতার অস্ত্রেই তাকে ঘায়েল করতে কোমর কষছে গেরুয়া শিবির৷ ২০০৯-এর পর থেকে যেভাবে বাংলার জন্য একের পর এক রেল প্রকল্প এনে ২০১১-র বিধানসভা ভোটে বাজিমাত করেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷এবার সেই একই কায়দায় ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে জয়ের রাস্তা খুঁজছে বিজেপি৷ সেই কারণেই দলে নেওয়ার পাশাপাশি মুকুল রায়কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করার পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর৷ আর সেক্ষেত্রে মুকুলের রেলমন্ত্রক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল৷

এর আগে একবার রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন মুকুল রায়৷ তখন ছিল ইউপিএ জমানা৷ ২০১২ সালের ২০ মার্চ দায়িত্ব পেয়েছিলেন মুকুল৷আর তাঁর পদ যায় ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর৷ তার পর আবার তিনি রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে পারেন৷আপাতত সেই নিয়েই আলোচনা চলছে৷ বিজেপির একটি সূত্রের খবর, মুকুল রায়ের তরফে রেলমন্ত্রক চাওয়া হয়েছে৷ আর সেই দাবি নাকচও করেনি বিজেপি৷ তবে দেয়ওনি৷ কিন্তু ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে৷ মুকুলকে রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব দিলে এর জন্য আগামী দিনে বিজেপিশাসিত কোনও একটি রাজ্য থেকে রাজ্যসভার আসনে জিতিয়ে আনতে চায় কেন্দ্রের শাসক দল৷ সেই বিষয়েও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা আলোচনা শুরু করেছেন বলে খবর৷

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখনও পর্যন্ত চারজন বাঙালি রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন৷ তাঁদের মধ্যে বরকত গনি খান চৌধুরি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিলেন৷ কারণ, তাঁরা প্রকল্প থেকে শুরু করে একাধিক পদক্ষেপে বাংলাকে অনেককিছু উপহার দিয়েছিলেন৷ আর তার সুফল তাঁরা ভোটবাক্সেও পেয়েছেন৷ মালদহে এখনও বরকতের নামেই ভোটে জেতেন কংগ্রেসের প্রার্থীরা৷ মমতাও একই কায়দায় সুফল পেয়েছেন৷ ২০০৯-এ রেলমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি দু’বছরে রেলের যে সব প্রকল্প বাংলায় শুরু করেছিলেন, তার একটা ফল মিলেছিল ২০১১-র বিধানসভা ভোটে৷

বিজেপি সূত্রে খবর, সেই অঙ্কই এবার ঘুরছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মাথায়৷ কারণ, মুকুল রায়কে দলে কী পদ দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও জটিলতা রয়েছে৷ বাংলার নেতাদের ক্ষোভ বাড়িয়ে মুকুলের গুরুত্ব বাড়ালে যে, তাতে হিতে বিপরীত হবে, সেকথা ভালই টের পাচ্ছে গেরুয়া শিবিরের থিঙ্কট্যাঙ্ক৷ সেক্ষেত্রে মুকুলকে রেলমন্ত্রক দিয়ে দিতে পারলে, একই সঙ্গে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন তাঁরা৷

কী কী সমস্যার সমাধান হতে পারে?

প্রথমত, মুকুল রায়কে যদি রেলমন্ত্রী করা হয়, তাহলে সকলের ফোকাস সেদিকেই সরে যাবে৷ মুকুল রায়ের দলে কী পদ, তা নিয়ে কেউ আর ভাববেন না৷ ফলে বিজেপির বঙ্গ-নেতাদের ক্ষোভ সামাল দেওয়া যাবে৷ দ্বিতীয়ত, আর প্রায় দেড় বছর পরই লোকসভার ভোট৷ তার আগে মুকুলের হাত দিয়ে রাজ্যের জন্য রেলের প্রকল্প বঙ্গবাসীর জন্য উপহার হিসাবে দিতে পারলে, যে প্রকল্পগুলির কাজ থমকে দ্রুত সেগুলি শেষ করা গেলে, ২০১৯-এর ভোটের সুফল মিলবে৷এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি এবার ২৫টি জেতার টার্গেট করেছে৷ আর সেই লক্ষ্যে সফল হতে গেলে মুকুল রায়ের সাংগঠনিক দক্ষতা যেমন কাজে লাগবে৷ তেমনই তাঁকে রেলমন্ত্রী করলে তা বোনাস হয়ে দাঁড়াবে৷ তৃতীয়ত, মোদী জমানায় সবচেয়ে সমালোচিত রেলমন্ত্রক৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন দেখালেও, রেল কিন্তু তার জরাজীর্ণ দশা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেনি৷ গত তিন বছরে দুর্ঘটনা ভারতীয় রেলের কার্যত নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বড় কোনও নেতা এই দায়িত্ব নিতে চাইছেন না৷ ফলে সদ্য মুকুল রায়কে সেই দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া অনেক সহজ৷