নয়াদিল্লি: হঠাত যেন অসময় চলছে। এক বছরের মধ্যে তিনজন বলিষ্ঠ দলনেতাকে হারিয়ে যেন বেশ কিছুটা থমকেই গেছে বিজেপি। শনিবার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমেছে বিভিন্ন মহলে। তাঁর জনপ্রিয়তা বিজেপিকে ছাপিয়ে বহু আগেই পৌঁছে গেছে বিরোধি ও আইনজীবি বন্ধুদের মধ্যে। তাঁর বিশেষজ্ঞ মতামত মন কেড়েছে সকলের। তাই এমন এক বন্ধুকে হারিয়ে বেশ মন ভার। রবিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে নিগমবোধ ঘাটে। তারআগে সকালেই বিজেপি সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁর দেহ। যেখানে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন অনেকেই।

সকাল ১০ টা নাগাদ অরুণ জেটলর বাসভবন থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির সদর দফতরে উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। দুপুর ২টো অবধি রাখা থাকবে সেখানেই। যেখানে কাতারে কাতারে মানুষ ও সমর্থকেরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসতে শুরু করেছেন সকাল থেকেই। বিকেলে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে নিগমবোধ ঘাটে।

হেভি সিকিউরিটি মোতায়েন করা হয়েছে কৈলাস কলোনির বাড়িতে। শববাহীযানটিকে সাদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। লোকসভা স্পীকার ওম বিড়লা অরুণ জেটলি ‘রাজনীতির স্টার’। বিজেপির নেতা রাম মাধব, কৈলাস বিজয়বর্গীয় অরুণ জেটলির বাড়িতে পৌঁছে গেছেন। নীতিন গডকড়ি, রাজনাথ সিং সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপণ করেছেন বিজেপির সদর দফতরে। আরও লোক জনের সমাগম ঘটবে তাই আশা করা যাচ্ছে। প্রাক্তন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দবাবু নাইডু বিকেলের ওই অনুষ্ঠানে সামিল হতে ইতিমধ্যেই রওনা হয়েছেন। প্রথমে তাঁর বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করবেন।

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কৈলাস কলোনিতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন জেটলি পরিবারের সঙ্গে। তিনি বলেছেন অরুণ জেটলিকে হারানোর দুঃখ গোটা দেশ সহ বিজেপির পক্ষে অসহনীয়। ১৯৭০ সাল থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে কাজ করছেন জেটলি। তাঁর ছাত্রজীবনে দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালীন তিনি ১৯ মাসের জন্য জেলে কাটিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক মঞ্চে বিরোধি হয়েও জেটলি আইনজীবি হিসেবে অনেকেই তাঁর বন্ধু। কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল বলেছেন, “জেটলি হলেন এমন আকজন রাজনীতিক যাকে সবাই ভালবেসেছে তাঁর সদাদীপ্ত মনের জন্য।” তিনি আরও বলেন, জেটলি তাঁর আদর্শের প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন। সিব্বল ও জেটলি সুপ্রিম কোর্টে সহকর্মী হলেও রাজনৈতিক মঞ্চে বিরোধি।

রবিবার সকালে ট্যুইট করে অভিনেত্রী শাবানা আজমি দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “অরুণ জেটলির প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। একজন নেতা যিনি সব রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে মিশেছেন। যাকে বলা যায় ক্লাসিক। তিনি প্রাণোজ্জল, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, যে সাহায্য করতে কখনও পিছপা হয়নি। খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলেন।”