বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: দেশ জুড়ে যেমন অভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালু হয়েছে৷ তেমনই, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একই ধরনের বেতন কাঠামো চালুর দাবি করছে এ বার রাজ্য বিজেপির সরকারি কর্মচারী পরিষদ৷

আর, এমনই দাবির ভিত্তিতে, গেরুয়া শিবিরের এই সংগঠনে যাতে পশ্চিমবঙ্গের আরও বেশি সংখ্যক সরকারি কর্মীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও পোক্ত করা যায়, তার জন্য প্রচেষ্টাও জারি রাখা হয়েছে৷ তার অন্যতম কারণ, এমনিতেই যেমন বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ রয়েছে৷ তেমনই অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতনের মধ্য ফারাকের বিষয়টিকে কেন্দ্র করেও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন অংশে ক্ষোভ রয়েছে৷

আরও পড়ুন: ভারতীয় সংস্কৃতির ধারক: মাত্র ২০ ঘণ্টায় সংস্কৃত ভাষা শেখাতে বাংলাজুড়ে শিবির

আর, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই, রাজ্য বিজেপির সরকারি কর্মচারী পরিষদ জিএসটির মতো অভিন্ন বেতন কাঠামোর দাবি করছে৷ কেন? এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির সরকারি কর্মচারী পরিষদের সহ আহ্বায়ক পার্থ সাহা বলেছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি কর্মীরা সকলেই তো সরকারি কর্মী৷ তাঁরা একই ধরনের কাজ করেন৷ তা হলে, বেতন কাঠামো কেন ভিন্ন ধরনের হবে?’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘জিএসটির মাধ্যমে গোটা দেশে একই ধরনের কর প্রদানের কাঠামো চালু হয়েছে৷ আমরা চাইছি, দেশ জুড়ে কেন্দ্র এবং সব রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য জিএসটির মতো অভিন্ন বেতন কাঠামো চালু হোক৷’’

আরও পড়ুন: প্রশিক্ষণহীন এক্স সার্ভিসম্যান-চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা আইনের রুলস তৈরি করছেন মমতার দফতরে

তবে, শুধুমাত্র এমন বিষয়ও নয়৷ পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে এমনিতেই ক্ষোভ রয়েছে৷ তার উপর, এখনও পর্যন্ত ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ পেশ না হওয়ার জেরেও রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বড় অংশ ক্ষুব্ধ৷ ২০১৬-র জানুয়ারি মাসে ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল৷ এই কমিশনের মেয়াদ সম্প্রতি আরও এক বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে৷

আরও পড়ুন: বাংলায় ডেঙ্গু রুখতে মোদীর কাছে ‘হার মানলেন’ মমতা

পার্থ সাহা বলেন, ‘‘বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা হয়েছে৷ কিন্তু, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বিষয়ে অহেতুক দেরি করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার বিষয়টিও হতাশাজনক৷’’