ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক: দলের নেত্রীকেই কান ধরে ওঠবোস করিয়েছিল তৃণমূলের নেতারা। শুধু তাই নয়, ওই নেত্রীর গলায় জুতোর মালা পড়িয়ে গ্রামে ঘোরানো হয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনে সেই ঘটনার যেন যোগ্য জবাব দিলেন গ্রামবাসীরা। ঘাস ফুলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল পদ্ম।

ঘটনাটি মেদিনীপুর সদর ব্লকের কনকাবতী অঞ্চলের। এক বছর আগে ওই এলাকার বাগডুবি গ্রামের ঘটনা নজর কেড়েছিল গটা দেশের। পঞ্চায়েত ভোটে ছাপ্পা দিচ্ছে দলেরই নেতাকর্মীরা। যার প্রতিবাদ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা বিদায়ী পঞ্চায়েত সদস্যা কবিতা দাস। সেই অপরাধের জেরে তাকে চরম শাস্তি দেয় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

গলায় জুতোর মালা ঝুলিয়ে, কান ধরে ওঠবোস করানো হয় কবিতা দাসকে৷ সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ছবি ছড়িয়ে পরে। এবং খুব সহজেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল কংগ্রেসকে। সেই গ্রামের দুই বুথেই লোকসভা নির্বাচনে পরাস্ত হয়েছে তৃণমূল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগডুবির বুথে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৪১০। বিজেপি পেয়েছে ৪৫৩ ভোট। আর বামেরা পেয়েছে ২২। পাশের বুথেও হেরেছে তৃণমূল। তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৫১১। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ৫১৯। আর বামেরা ৩৪।

এই ফল আসলে তৃণমূলের নেতাদের কৃতকর্মের ফল বলে দাবি করেছেন নিগৃহীতা নেত্রী কবিতা দাস। তাঁর কথায়, “যে কাজ ওরাব করেছিল, তার যোগ্য জবাব পেয়ে গিয়েছে।” কবিতাদেবীর স্বামী গোপাল দাস বলছেন, ‘‘এলাকার মানুষ তৃণমূলকে হারিয়েছেন। আমরা খুশি। বিচারের জন্য লড়াই চলবে।’’ এই দম্পতি ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁরা বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।

কনকাবতীর বিজেপি নেতা সুজয় দাস বলেন, ‘‘বাগডুবির বুথে তৃণমূল হেরেছে। এলাকার মানুষ ভোটেই ওদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন।’’ কনকাবতীর তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ কর্মকার বলেন, ‘‘সেদিনের ঘটনা দল সমর্থন করেনি। ভোটের ফল কেন এমন হল তা খতিয়ে দেখা হবে।’’ ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সঞ্জিত কুইল্যাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি। তবে আইনের লড়াই এখনও চলছে। রাজনৈতিক লড়াই জিতলেও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে এখনও অনড় কবিতা দাস। তিনি বলেছেন, “আমি বিচারের অপেক্ষায় আছি।”