ফাইল ছবি

কলকাতা: উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ে অনুশোচনা উপচে পরছে দলের অন্দরে। শুক্রবার রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্র বোস বাংলায় ধর্মের রাজনীতি চলবে না উল্লেখ করে দলকে পশ্চিমবঙ্গে রণনীতি বদলের পরামর্শ দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গকে রীতিমত কাউন্টার করেছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। উপনির্বাচনের আগে দলের মঞ্চেই এই পরামর্শ প্রয়োজন ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। দলের বাইরে এইরকম মন্তব্য অপ্রয়োজনীয় বলেই মত প্রকাশ করেছেন রাজ্যের এই নেতা।

শুক্রবার উপনির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “যদি সত্যি মনে হয় দল কোন ভূল পদক্ষেপ নিচ্ছে তা দলের মঞ্চেই বলা উচিত ছিল। তাছাড়া দলের বাইরে এইরকম মন্তব্য অপ্রয়োজনীয়। উপনির্বাচনের আগে দলের মঞ্চেই এই পরামর্শ প্রয়োজন ছিল।”

এছাড়াও উপনির্বাচনের পরাজয় প্রসঙ্গে ইভিএম-এ কারচুপিকেও দোষারোপ করেন। তৃণমূল প্রসঙ্গে উদ্বেগের কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “লোকসভা নির্বাচনে কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর সদর বিধানসভায় প্রচুর ভোটে জয়লাভ করেছে বিজেপি। তবুও তিনটি কেন্দ্রে বিজেপি হেরে গিয়েছে। খড়গপুর এবং কালিয়াগঞ্জে প্রথমবার জয় পেয়েছে তৃণমূল যা মূলত সকলকে ভাবাচ্ছে। সকলেই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে বিজেপি তিনটি আসনে জয়লাভ করবে।”

উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বে থাকলেও উপনির্বাচনের দায়িত্ব থাকে রাজ্য সরকারের উপর। শাসকদল নির্বাচন জেতার জন্য যা খুশি তাই করতে পারে। ইভিএমে কারচুপি না করলে এই ফলাফল সম্ভব নয়।”

উপনির্বাচনে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে জেতার অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন বিজেপি নেতা। তবে বিজেপির পরাজয়ে বারবারই কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এনআরসি ইস্যু এবং দলের অন্দরে ভেদ-বিভেদ। অনেক নেতাদের কথায় তা একাধিকবার উঠে এসেছে। কিছুটা দোষারোপ, অযোগ্যদের দলে জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্তই দলের ভেতর মুখে মুখে ঘুরছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আর ১৮ মাস বাকি। উপনির্বাচনের ফল তৃণমূলকে আরও অনেকটা এগিয়ে রাখবে তাও স্পষ্ট হয়ে গেল।

বাংলায় ধর্মের রাজনীতি করা যাবে না, দেশের অন্যত্র যা সম্ভব তা বাংলায় করা যাবে না। এখানে মানুষ রাজনৈতিকভাবে অবগত, শিক্ষিত। উপনির্বাচনে বিজেপির ধরাশায়ী হারের ঠিক একদিন পরেই, রাজ্যে দলের ভাইস-প্রেসিডেণ্ট চন্দ্র বোস বলেছেন বিজেপিকে রাজ্যভিত্তিকভাবে প্ল্যান করতে হবে। ভারতের অন্যপ্রান্তে যে ভাবনা সহজেই কার্যকর করা যায় তা বিবেকানন্দ এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের মাটিতে সম্ভব নয়।

এছাড়াও তিনি বলেছেন, সারা দেশ জুড়ে যে নীতি নেওয়া যায় তা পশ্চিমবঙ্গে সম্ভব নয়। এনআরসি বিষয়টি ভিত্তিহীন। উপনির্বাচনের আগে কখনই এটা প্রাথমিক ভিত্তি হতে পারে না। আমরা অন্য বিষয়কেও আলোকপাত করতে পারতাম।” এই প্রসঙ্গেই চন্দ্র বোসকে কার্যত কটাক্ষের সুরে উত্তর দিয়েছেন রাজ্যের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা।