স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: ৬ লক্ষ ৫৭ হাজার ভোট পেয়ে ৭৮ হাজার ৪৭ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন তিনি৷ তাই লক্ষ্য সেইসংখ্যক গাছ লাগাবেন গোটা জেলায়৷ সাত মাস পরে বাঁকুড়ায় ঢুকলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ৷ ঢুকেই জানালেন আগামী ছ’মাসে ৭৮ হাজার ৪৭, আগামী পাঁচ বছরে ৬ লক্ষ ৫৭ হাজার চারা গাছ লাগাবেন বাঁকুড়ায়৷

গত শুক্রবার হাইকোর্টের তরফে জেলায় ঢোকার অনুমতি পেয়ে রবিবারই নিজের জেতা লোকসভা কেন্দ্রে এসে একথা ঘোষণা করেন তিনি। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই বিষয়টিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। “আমি গ্রামের ছেলে। আমি হরিদাস ব্যানার্জীর মতো চুরি করা পয়সায় আট তলা বাড়ির উপর থাকিনা।”

এদিন সৌমিত্র খাঁয়ের সঙ্গে জেলায় আসেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। বিষ্ণুপুর স্টেডিয়ামে সভা শেষে তারা এক আদিবাসী পরিবারে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। মুকুল রায়, সৌমিত্র খাঁ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী সুজাতা খাঁ, দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্বপন ঘোষ প্রমূখ।

আরও পড়ুন : আর জল জমবে না বেহালায়, নতুন নিকাশি টানেল পরিদর্শনে মেয়র

প্রতারণা মামলার জেরে দীর্ঘ সাত মাস আদালতের নিষেধাজ্ঞার জেরে বাঁকুড়া জেলায় ঢুকতে পারেননি তিনি। এমনকি সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি তার। ফলে প্রচারের সিংহভাগ দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন তার স্ত্রী সুজাতা খাঁ। বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি আর স্ত্রী সুজাতা খাঁয়েরর প্রচারে ভর করে ভোট বৈতরণী পার করতে হয় তাকে। ফল প্রকাশের পর দেখা যায় তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকে তিনি বিপুল ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত করেছেন। মধ্যাহ্নভোজ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাম না করে তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক হাত নেন তিনি।

তৃণমূলের ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলার’ প্রশান্ত কুমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ‘প্রশান্ত কুমার কে খায়না, মাথায় দেয়’ প্রশ্ন তুলে মুকুল রায় বলেন, উনি কি তৃণমৃলের সভাপতি। এই মুহূর্তে বহুচর্চিত কাটমানি আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাটমানি নিয়ে বিজেপি কোন আন্দোলন করছেনা। বাংলার মানুষ বনাম তৃণমূলের লড়াই হচ্ছে। মানুষ টাকা দিয়েছে, তারা বলছে টাকা ফেরৎ দাও। সাংবাদিকদের আরো এক প্রশ্নের উত্তরে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল তিরিশটা আসনও পাবে না, আবার বিরোধী দলের মর্যাদাও পাবে না বলে তিনি দাবি করেন।