তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া): কলিয়ারীর জমি ও বাস্তচ্যুতদের চাকরী ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবীতে বাঁকুড়ার বড়জোড়ার বাগুলিয়া কয়লা খনিতে মঞ্চ বেঁধে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। সোমবার সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এর নেতৃত্বে দলের নেতা, কর্মীরা কলিয়ারীতে জমিহারা অসংখ্য মানুষ অংশ নেন।

কয়লা খনির অবস্থান থেকে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ তৃণমূল ও জেলাশাসককে আক্রমণ করেন। বাঁকুড়া জেলাশাসককে শাসক দলের ‘জেলা সভাপতি’ আখ্যা দিয়ে সৌমিত্র খাঁ বলেন, এবিষয়ে তাঁকে ফোন করা হলে উনি বলছেন, আমি কিছু জানিনা। ওপর থেকে নির্দেশ আসছে। ঐ ওপরতলার নির্দেশকারী ব্যক্তিটি কে তারা তা দেখতে চান। তথাকথিত ঐ ‘ওপরের মানুষটি’ মুখ্যমন্ত্রী না বিদ্যুৎ মন্ত্রী কে তিনি কে জানতে চেয়েও প্রশ্ন তোলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

স্থানীয় চূনপোড়াতে একটি সংস্থা গরীব মানুষদের জমি জোর করে দখল নিয়েছে দাবী করে তিনি বলেন, ঐ জমির দলিলে একর প্রতি ২২ লক্ষ টাকা উল্লেখ থাকলেও তাদের দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৪ লক্ষ টাকা। বাকি ৮ লক্ষ টাকা তৃণমূলের একাংশের নেতা ‘চুরি’ করেছে বলেও তিনি দাবী। এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবীর পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ট্রান্স দামোদর কলিয়ারীতে বিডিও তৃণমূলী গুণ্ডাদের নিয়ে মিটিং করেছেন। তাদের দলের তরফে জমিহারা ও বাস্তুহারাদের চাকরী ও তাদের ২০০৯ সালে যেখানে ১১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল, এই মুহূর্তে তা প্রতি একর পিছু প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়ার দাবী জানান তিনি। কলিয়ারীর সমস্যা সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদকে না ডেকে তৃণমূলী গুণ্ডাদের নিয়ে ‘কয়লা চোর’ বিডিও আলোচনা করছেন বলে তিনি স্পষ্টতই অভিযোগ করেন। আর তার বিরুদ্ধেই এদিন তাদের এই আন্দোলন বলে তিনি জানান।

এবিষয়ে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কাজল পোড়েল বলেন, ব্লক ও জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হয়েছে। কলিয়ারী সংক্রান্ত কমিটি থেকে বিরোধী দলের স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজ্যের সিদ্ধান্ত।