ফাইল ছবি

লখনউ: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে জমে উঠেছে ভোটের প্রচার। রাজনৈতিক দলগুলির পরস্পরকে আক্রমণ এবং প্রতিআক্রমণ চলছেই। এবার সেই আক্রমণ সরাসরি পৌঁছে গেল ব্যক্তিগত স্তরে। সৌজন্যে বিজেপি।

উত্তর প্রদেশের বিজেপি সাংসদ রাজবীর সিং শনিবার ভোট প্রচারে মাহোবা এলাকায়। এবারেও তিনি এটাওয়া কেন্দ্র থেকে লড়ছেন বিজেপির প্রতীকেই। মাহোবার সভা থেকেই বিরোধী কংগ্রসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। সেই সময়েই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বসেন রাজভীর সিং।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পরেই শৌচালয় নির্মাণে বিশেষ গুরত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেশের সকল প্রান্তে শৌচালয় নির্মাণ করার প্রকল্প নেওয়া হয়। স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের অধীনে দেশের সকল বাড়িতে শোউচালয় নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেয় মোদী সরকার। বিশেষত মহিলাদের জন্যেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আক্রমন করে বিরোধী শিবির। বড় কোনও প্রকল্প বা কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী কোনও প্রকল্পের দিকে না গিয়ে কেবল প্রচারের স্বার্থে মোদী শৌচালয় নির্মাণ করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস।

এই বিষয়টি নিয়েই পালটা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেছেন বিজেপি সাংসদ রাজবীর সিং। তিনি বলেছেন, “কংগ্রেস এখন শৌচালয় নির্মাণ নিয়ে কথা বলছে। বড় ছোট কোনও জ্ঞান নেই। রাহুল গান্ধীর মা কিংবা ঠাকুমা খোলা মাঠে শৌচকর্ম করতে যেতেন তাহলে তিনি শৌচালয়ের মর্ম বুঝতেন।” রাহুল গান্ধীর মা হলেন সোনিয়া গান্ধী। যিনি ইউপিএ চেয়ারপার্সন এবং কংগ্রেসের সভেনেত্রী ছিলেন। ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ইন্দিরা জমানা নিয়ে বিরোধীরা কটাক্ষ করলেও গর্ব করে কংগ্রেস। অনেক বিরোধী দলের নেতাদের মুখে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রশংসাও শোনা যায়।

ভোটের প্রচারে এই দুই মহিলাকে নিয়ে এই ধরনের বক্তব্য থেকে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তবে বিজেপি সাংসদ রাজবীর সিং-এর মন্তব্যের ২৪ ঘন্টা পরেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোনও নেতাকে এই বিষয়ে মুখ খুলতেও দেখা যায়নি।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফায় ভোট গ্রহণ হবে এটাওয়া কেন্দ্রে। আগামি সোমবার সেই ভোট গ্রহণের পরে আরও তিন দফার ভোট হবে মে মাসের ছয়, ১২ এবং ১৯ তারিখে। সাত দফার ভোট গ্রহণের পরে ফল ঘোষণা হবে ওই মাসেরই ২৩ তারিখে।