নয়াদিল্লি:  ২০২১। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। আর বাংলায় বিধানসভাকেই পাখির চোখ করেছে বঙ্গ-বিজেপি। যেভাবে লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় গেরুয়া ঝড় উঠেছে তাতে চাপ বেড়েছে শাসকদল তৃণমূলের। এই অবস্থায় কীভাবে বিধানসভা ভোট বৈতরণী পার হওয়া যায় তা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক বসছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় বিজেপির বিজয়রথ থামিয়ে দিতে ইতিমধ্যে ভোট-কৌশলি প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করেছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিকমহলের মতে, তাঁর পরামর্শেই নাকি এখন চলতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদকেও। এই অবস্থাকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিজেপি নেতা। এই প্রসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের তোপ, বিজেপির ভয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনীতিবিদকেও একজন ভোট-কৌশলির সাহায্য নিতে হচ্ছে।

এই অবস্থায় একদিকে যখন প্রশান্তকে নিয়ে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন বিজেপির ঝাড়খণ্ডের এমপি সুনীলকুমার সিং। তাঁর মন্তব্য, যে ব্যক্তিকে ধরে এবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভোট-বৈতরণী পার করতে চাইছেন, সেই প্রশান্ত কিশোর আমাদেরই লোক। আমরাই পাঠিয়েছি। লোকসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর এই মন্তব্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। যদিও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি তৃণমূল। তবে সভার মধ্যে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন চুরমার হবে। ২০২১ সালে লোকসভার সব হিসেব উল্টে দেবেন মমতা। আমরাই ক্ষমতায় ফিরব।

উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির বাড়বাড়ন্ত। একধাক্কায় দুটি আসন থেকে ১৮ টি লোকসভা আসন ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বাংলায় এই গেরুয়া ঝড়ের পরেই কার্যত নৌকা টলমল শাসকদল তৃণমূলের। এই অবস্থায় বারবার সরকার ফেলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন বিজেপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তাই বিজেপিকে ঠেকাতে প্রশান্ত কিশোরকে ব্যবহার করে কিছুটা যেন কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার ব্যবস্থা করে রাখতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী৷

গত ২০০৪ সালে ‘আব কি বার মোদী সরকার, আচ্ছে দিনের স্লোগান দিয়ে ব্যান্ড মোদীকে সবার সামনে তুলে এনেছিলেন প্রশান্ত। মোদী ঝড়ের কাণ্ডারি ছিলেন তিনি৷ সেই শুরু৷ তারপর থেকে প্রশান্ত কিশোর মানেই ভোটবাক্সে নজরকাড়া রেজাল্ট৷ যাবতীয় নেতাদের উত্থানের পিছনে এই প্রশান্ত কিশোরের অবদান বারবারই খবরের পাতায় উঠে এসেছে৷ এবার মমতাকে ফের ক্ষমতায় ফেরাতে বাংলায় কাজ শুরু করে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।