কলকাতা: তিনি এখনও বিজেপির সাংসদ৷ গেরুয়া শিবিরের মুখ৷ তবে দলবিরোধী মন্তব্যের জন্যই বেশি পরিচিত তিনি৷ তিনি বিহারিবাবু শত্রুঘ্ন সিনহা৷ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ব্রিগেডের মহাজোটের সমাবেশে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বক্তব্য রাখলেন৷ মোদী সরকারকে কটাক্ষ করে বললেন রাফায়েল নিয়ে তথ্য লুকিয়ে যাবেন না৷ নয়তো মানুষ ঠিকই বলবে চৌকিদার চোর হ্যায়৷

বক্তব্য রাখতে উঠে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকেই ছুটে এসেছেন কলকাতায়৷ এই ব্রিগেড সমাবেশের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে এই বিজেপি সাংসদ বলেন এখানে এসে ভারতের জনগণের মুড বোঝা যাচ্ছে৷ দেশের নয়া নেতৃত্বের প্রয়োজন৷ খুব স্বাভাবিক ভাবেই একজন বিজেপি সাংসদের মুখে পরিবর্তনের কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে জনতা৷

তাঁর বিরুদ্ধে দলবিরোধী একাধিক কাজের ও মন্তব্যের জন্য অভিযোগ ও সমালোচনা শুনতে হয় তাঁকে৷ অবশ্য তা যে খুব একটা গায়ে মাখেন না তিনি, তা শত্রুঘ্ন সিনহার কথাতেই স্পষ্ট৷ এদিন নিজেই জানিয়ে দিলেন, যদি সত্যি কথা বলা দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হয়, সেই বিশ্বাসঘাতকতা তিনি বারবার করবেন৷ যশবন্ত সিনহার সাবধানবাণী উল্লেখ করে তিনি বলেন দল থেকে বের করে দেওয়ার ভয় তিনি পাননা৷

নোটবন্দী, জিএসটি করে মোদী সরকার মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে৷ এদিন বিহারীবাবুর বক্তব্যে উঠে এল সেই সব দিনগুলোর স্মৃতিচারণা৷ তিনি বলেন, মোদী সরকারের পারফরমেন্স নেই, অথচ প্রমিসেস রয়েছে৷ একদিকে উজ্জ্বলা যোজনা বানাচ্ছে সরকার, অথচ অন্যদিকে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে৷

তিনি সাধারণ মানুষকে মোদী সরকারের ধর্মের রাজনীতি প্রসঙ্গে সাবধান করেন৷ তিনি বলেন যত ভোট এগিয়ে আসবে, তত বিজেপি অযোধ্যা প্রসঙ্গে জোর দেবে৷ সেদিকে নজর দেবেন না৷