তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: তৈরির দু’বছরের মধ্যেই বাঁকুড়ার সারেঙ্গায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ঘটনায় ফের মাথাচাড়া দিল কাটমানি বিতর্ক। জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ঘটনাতেও এবার তৃণমূলকেই দুষলেন বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার।

জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার। এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তুলোধনা করেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে। সারেঙ্গার ফতেডাঙ্গা গ্রামে ওই জলের ট্যাঙ্ক তৈরিতে কাটমানি নিয়েছেন এলাকার তৃণমূল নেতারা, এমনই অভিযোগ বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারের।

বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, ‘পুরো সরকারই সিন্ডিকেট ও কাটমানির সরকারে পরিণত হয়েছে। সারেঙ্গার ওই জলের ট্যাঙ্ক তৈরিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।’ একইসঙ্গে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়া নিয়েও কেন্দ্রীয় কোনও সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি তোলেন বিজেপি সাংসদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সারেঙ্গায় জলের ট্যাঙ্ক কলকাতার যে সংস্থা তৈরি করে তারা জঙ্গলমহলে আরও ১৬টি জলের ট্যাঙ্ক তৈরি করেছে। বিজেপি সাংসদের অভিযোগ, ওই সব জলের ট্যাঙ্কই নিম্নমানের কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে সে বিষযে তদন্তের দাবি তুলেছেন সুভাষ সরকার।

রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করছে বলেও অভিযোগ বিজেপি সাংসদের। স্থানীয় গ্রামবাসী প্রসেনজিৎ মুর্মূর অভিযোগ, অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই তৈরির দু’বছরের মাথায় জলের ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়েছে। শাসক দলের নেতাদের একাংশ কাটমানি নিয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ।

বুধবার দুপুরে সারেঙ্গার ফতেডাঙ্গা গ্রামে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের তৈরি পানীয় জলের ট্যাঙ্ক হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। জলের ট্যাঙ্কটির বেহাল দশা জেনে ও সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আগাম আন্দাজ করতে পারায় স্থানীয়রা সতর্ক হয়ে ছিলেন। এলাকা ফাঁকা করে দেওয়ায় ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার জেরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এদিকে, জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা জানান, ঠিক কী কারণে এই বিপত্তি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই এলাকায় জল সরবরাহ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।