কলকাতা: সুপার সাইক্লোন বুলবুল বিধ্বস্ত করেছে গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সুন্দরবনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখার ঠিক পরেই বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় গিয়েছেন সেখানে। প্রত্যক্ষ সেই অভিজ্ঞতার ভিডিও তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দেওয়া ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ানকে রীতিমত প্রশ্ন করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

রবিবার এই প্রসঙ্গে একটি ট্যুইট করে তিনি জানিয়েছেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী বুলবুল এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ২৮ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রের তরফ থেকে যথাসাধ্য সাহায্যের হাত বাড়াতে প্রস্তুত কেন্দ্র কিন্তু মোদীজির নির্দেশানুযায়ী আমি নিজে সরজমিনে গিয়ে যেটা প্রতক্ষ করেছি যে সেখানের মানুষ কিছুই পাইনি।”

ট্যুইটের দ্বিতীয় অংশে তিনি লিখেছেন, “অথচ এর পরেও রাজ্য সরকার খাতায় কলমে দেখিয়েছে যে সেখানে কোটি কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ হয়েছে। অকপট ভিডিওগুলো দেখুন যেখানে এই ঝড়ে বিদ্ধস্ত মানুষগুলো পরিষ্কার বলছে যে ত্রাণের টাকা সরাসরি তাদের হাতে না পৌঁছালে প্রশাসন সমস্ত টাকা চুরি করে নেবে।”

রবিবার, ১৩ নভেম্বর সুন্দরবন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা ক্যামেরাবন্দি করে দুটি’ভাগে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষ তার গাড়ির চারিদিকে ঘিরে ত্রাণ সামগ্রী না পাওয়ার অভিযোগ জানাচ্ছেন। কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে ঘর না পাওয়ারও অভিযোগ জানিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বলেই ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় নভেম্বরের ১০ তারিখ উত্তরবঙ্গ সফ্র বাতিল করে সোমবার অর্থাৎ নভেম্বরের ১১ তারিখ সুন্দরবনে বুলবুল বিদ্বস্ত এলাকা হেলিকপ্টারে ঘুরে দেখেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বাঁধ ভাঙা রুখতে সেচ কর্তাদের ম্যানগ্রোভ অরণ্য বাড়াতে নির্দেশ দেন। সঙ্গে সুন্দরবনে ভাঙন রুখতে যে বিশেষ ধরণের ঘাস ব্যবহার করছে বন দফতর, সেই ঘাস ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। তিনি সেচকর্তাকে বলেন, ‘‘বাঁধ কংক্রিট করে রাখা যাবে না। প্রতি বছর বাঁধ ভাঙবে। তাই ম্যানগ্রোভ বাড়ান।”

এরপরেই ত্রাণ শিবিরের খতিয়ান চান তিনি। পর্যাপ্ত পরিমানে ত্রাণসামগ্রী মজুত আছে কি না খোঁজ নেন সে বিষয়েও। ত্রিপল,গরম জামা, শুকনো খাবার পর্যাপ্ত পরিমানে মজুত রাখার কথা বলেন তিনি। ঝড় পরবর্তী সময়ে যাতে ক্ষয়ক্ষতি ঠিক করে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, তাই প্রতিটি অঞ্চলে ‘টাস্ক ফোর্স’ তৈরি করে বিভিন্ন দফতরকে একযোগে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বুলবুল বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় সহ বিজেপির প্রতিনিধি দল নামখানায় পৌঁছালে তাকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়৷ দেওয়া হয় গো ব্যাক শ্লোগান৷ পাল্টা জয় শ্রীরাম স্লোগান শোনা যায় বিজেপি কর্মীদের মুখে। বাবুলকে দেখানো হয় কালো পতাকা।

বুলবুলের আক্রমণের পর রাজ্যে পরিস্থিতিটা ঠিক কেমন তা নিয়ে মমতার সঙ্গে কথা হয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর। টুইট করে প্রধানমন্ত্রী জানান, “পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফ থেকে সবরকম আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষদের পাশে রয়েছি আমরা।” একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী সকলের সুরক্ষিত থাকার প্রার্থনাও করেছেন। অন্যদিকে শনিবার পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা দেখা এবং সামাল দেওয়ার জন্য কাল রাতে কন্ট্রোল রুমে হাজির ছিলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে সব ব্যবস্থার তদারকি করেন।

তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হেনস্থা’ থেকে রাজ্য সরকারকে এর আগে একাধিকবার আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বুলবুল থেকে জয়েন্ট কিংবা পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘নাফেড’-কে দোষারোপ করার কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবটাই মিথ্যাচারের চূড়ান্ত পর্যায় বলেছিলেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ।