স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: খড়দহের বিজেপি কর্মী গণধর্ষণের ঘটনায় ধিক্কার মিছিল করল গেরুয়া শিবির৷ মিছিলের নেতৃত্ব দেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ তাদের অভিযোগ দুষ্কৃতীরা শাসক দলেরই আশ্রিত৷ গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এক অভিযুক্ত। ধৃতের নাম আশিস বিশ্বাস। ধৃতকে নিমতা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও অধরা আরও তিনজন।

অভিযুক্ত আশিসকে শনিবার বারাকপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ। আদালত অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এই ঘটনায় এখনও অধরা অধিকাংশ অভিযুক্ত। ওই দুষ্কৃতীরা শাসক দলেরই আশ্রিত এই অভিযোগ তুলে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে বিজেপির মহিলা মোর্চা শনিবার বিকেলে এক ধিক্কার মিছিল করে। মিছিল খড়দহ রহড়া বাজার থেকে শুরু হয়ে খড়দহ থানার সামনে এসে সমাপ্ত হয়। মিছিলে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে পা মেলান কৈলাস বিজয়বর্গী, মুকুল রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ বিজেপির জেলা নেতৃত্ব।

মিছিল শেষে কৈলাস বিজয়বর্গীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে বলেন পশ্চিমবঙ্গে প্রজাতন্ত্র আছে৷ এটা পশ্চিমবঙ্গের জলজ্যান্ত উদাহরণ যে ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীরা এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে হত্যা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে৷ আর এবার তো সব সীমা পরিসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীদের পরিবারের মহিলাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। আমরা এটা কখনওই বরদাস্ত করব না।

মুকুল রায়ের বক্তব্য, অভিযুক্তরা যেহেতু শাসকদলের কর্মী সেই জন্য তাঁদের আড়াল করা হচ্ছে। মমতা কি ভুলে গিয়েছেন ফেলানি বসাকের জন্য তিনি কী করেছিলেন? নির্যাতিতার অপরাধ শুধু তাঁর স্বামী একজন বিজেপি কর্মী। এই অপরাধের জন্য তাকে আজ ধর্ষিতা হতে হল। বাংলার সরকারের লজ্জা পাওয়া উচিত৷

বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় জানান, পুলিশ অফিসারের সঙ্গে আমরা কথা বললাম৷ ওনারা বললেন আমরা একজনকে ধরেছি৷ কিন্তু তিনজন এখনও অধরা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলি একজনকে যখন গ্রেফতার করতে পেরেছেন তার সূত্র ধরে বাকিদেরকেও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। কারণ ঘটনার সময় চারজন একসঙ্গে ছিল। আমরা বলেছি চব্বিশ ঘণ্টা আপনাকে সময় দিচ্ছি। যদি সোমবারের মধ্যে সকলকে গ্রেফতার না করতে পারেন তাহলে লাগাতার আন্দোলন চলবে আমাদের তরফে।