মুম্বই: আরও একটি বিতর্কে জড়ালো আমাজন প্রাইমের ওয়েব সিরিজ পাতাল লোক। প্রযোজক অনুষ্কা শর্মার বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ দায়ের করলেন উত্তর প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক নন্দকিশোর গুরজার। অভিযোগ অনুমতি না নিয়েই ওয়েব সিরিজের একটি দৃশ্য়ে তাঁর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই প্রযোজকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

আমাজন প্রাইমের ওয়েব সিরিজ পাতাল লোক-এ একটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে ২০১৮ সালে গাজিয়াবাদের ইউপি গেট উদ্বোধনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। সেই ছবিতেই রয়েছেন নন্দকিশোর গুরজার। সঙ্গে নন্দকিশোর ছাড়াও রয়েছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথেরও ছবি। কিন্তু বিনা অনুমতিতে ছবি ব্যবহার করায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি বিধায়ক।

নন্দকিশোরের আরও দাবি, এই ওয়েবসিরিজে হিন্দু সনাতন ধর্ম নিয়ে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে। আর তার জন্য অনুষ্কার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি করেছেন তিনি। এছাড়াও তাঁর অভিযোগ এই ওয়েবসিরিজে পাকিস্তানকে অন্য ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সন্ত্রাসমুক্ত পাকিস্তান দেখানোর অভিযোগ করেছেন তিনি। আর তাই শীঘ্রই পাতাল লোককে নিষিদ্ধ করার দাবি করেছেন তিনি।

তবে এই প্রথম নয়। এই ওয়েব সিরিজকে ঘিরে এর আগেও আইনি নোটিশ পেয়েছেন অনুষ্কা শর্মা। সম্প্রতি জাতি বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে ‘পাতাল লোক’ এর বিরুদ্ধে। অনলাইন পিটিশনের মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করেছে ভারতীয় গোর্খা যুবক পরিষদ। এই মর্মে অভিনেত্রী তথা ওয়েব সিরিজের প্রযোজক অনুষ্কা শর্মাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে এই সংগঠন।

তাদের দাবি, ধারাবাহিকে নেপালিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। নেপালি মহিলাদেরকে বেশ্যাবৃত্তি সঙ্গে জড়িয়ে একাধিক সংলাপ রয়েছে ওয়েব সিরিজে। এমনকি নেপালি বলে তাকে ‘চিনা’, ‘চিনি’ বলেও সম্বোধন করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ভারতীয় গোর্খা যুব পরিষদের সঙ্গে প্রতিবাদ করছে বিভিন্ন নেপালি সংগঠন। সিকিমের প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান ভরত বসনে ও এর তীব্র নিন্দা করেছেন।

পাতাল লোক ওয়েব সিরিজে মেরি লিংডো নামে এক রূপান্তরকামী চরিত্র রয়েছে। লিংডো আসলে মেঘালয়ের খাসি জাতির মানুষ। কিন্তু তাকে এই ওয়েব সিরিজে বারবার নেপালি বলে সম্বোধন করা হয়েছে। কখনো আবার চিনা বা চিনি বলে ডাকা হয়েছে চরিত্রটিকে। এছাড়া নেপালিদের বারবার বেশ্যাবৃত্তির সঙ্গে জড়িয়ে মন্তব্য করার জন্যই এই ওয়েব সিরিজ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন তারা।

উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ বা মঙ্গোলীয় জাতির মানুষের জাতীয় বর্ণবৈষম্যের শিকারের খবর প্রায় উঠে আসে। এই ওয়েব সিরিজ তাদের সম্পর্কে আরও বেশি করে ভুল ধারণা দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি করে বলে অভিযোগ ভারতীয় গোর্খা যুবক পরিষদের।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প