স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অধিবেশন চলাকালীন সাসপেন্ড হলেন বিজেপি বিধায়ক দুলাল বর৷ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার তাঁকে সাসপেন্ড করেছেন৷ চলতি অধিবেশনে ওই বিজেপি বিধায়ক আর অংশ নিতে পারবেন না৷

মঙ্গলবার অধিবেশন শুরু হতেই একটি সংবাদপত্র হাতে নিয়ে ওয়েলে নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই তৃণমূলের টিকিটে জেলা বাগদার বিধায়ক৷ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই ক্ষোভ জানান দুলাল বর৷ তিনি বলেন, “বনগাঁর বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের উপরে হামলার জন্য আমি পয়েন্ট অফ অর্ডার তুলতে চেয়েছিলাম। আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিধায়কের উপরে এই হামলার ঘটনায় আমি পুলিশমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।”

উল্লেখ্য, সোমবারও বনগাঁর বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন দুলাল বর। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বজিৎ দাসের উপর হামলা চালিয়েছে শাসক দল তৃণমূল। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেন এবং তারপরই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুলাল বরকে একদিনের জন্য বিধানসভা থেকে বরখাস্ত করেছিলেন অধ্যক্ষ৷ এমনকি তাঁকে মার্শাল দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল৷

এদিনও দুলাল বর একই ইস্যুতে সরব হলে অধ্যক্ষ তাঁকে বারণ করেন৷ কিন্তু বিজেপি বিধায়ক তা শোনেননি৷ এরপরই বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনি এই ভাবে সভায় ডিজঅর্ডার তৈরি করতে পারেন না। সভায় ডিজঅর্ডার তৈরি করার জন্য আমি আপনাকে আজকের মতো সাসপেন্ড করছি। তার কিছুক্ষণ পর বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাঝি দুলাল বরকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন৷ যদিও সিপিএমের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী তার প্রতিবাদ করেন৷ তিনি অধ্যক্ষকে বোঝাতে চান, এটা তেমন কোনও ঘটনা নয়৷ কিন্তু অধ্যক্ষ তা শোনেননি৷ তিনি এই প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটির নির্দেশ দেন৷

বিধানসভায় তৃণমূল সংখ্যাধিক্য হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তারা জিতে যায় এবং যার ফল বিজেপি বিধায়ক দুলাল বর সাসপেন্ড হন৷ এপ্রসঙ্গে দুলালবাবু বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় ইতিহাসে কোনও বিধায়ককে এইভাবে বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড হতে হয়না৷ কোনও বিধায়ককে সাসপেন্ড করতে হলে সেই সদস্যের বিরুদ্ধে আগে অনাস্থা আনতে হয়৷ বর্তমান অধ্যক্ষ ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন৷ তবে বিধানসভার ভিতরে আমি ঢুকতে না পারলেও কাল থেকে বিধানসভার গেটে বসব৷ ওখানে আমি কর্মসূচী পালন করব৷”

এর আগেও ট্রেজারি বেঞ্চের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তৃণমূল হয়ে কংগ্রেস ঘুরে বিজেপিতে যাওয়া বিধায়ককে৷ বিধানসভায় কাটমানি প্রসঙ্গ তুলতেই তাঁকে আক্রমণ করে শাসক দলের বিধায়করা বলেছিলেন, ‘তুই কোন দলে আছিস, সেটা আগে বল’৷