স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাংলায় গেরুয়া পালে হাওয়া লেগেছে৷ লোকসভা ভোটের সাফল্য বদলে দিয়েছে রাজ্য বিজেপির ছবি৷ কলেবরে বাড়ছে সংগঠন৷ চাপ বাড়ছে মুরলীধর সেন লেনের নেতাদের৷ কিন্তু, দলের অধিকাংশ প্রথম সারির নেতাই ভোটে জিতে হয়েছেন সাংসদ৷ এই অবস্থায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে মেদিনীপুরের সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাজের ভার লাঘব৷ একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব তুলে আনতেও উদ্যোগ নিতে চান অমিত শাহ৷

চলতি মাসের ৩০ তারিখ রাজধানীতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছেন৷ সেখানে হাজির থাকার কথা রাজ্য বিজেপি সবাপতি দিলীপ ঘোষ সহ সব সাধারণ সম্পাদক ও বাংলার ৩৯ সাংগঠনির জেলা সভাপতিদের৷ থাকবেন বাংলায় বিজেপির দুই পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন ও কৈলাশ বিজয়বর্গীয়৷ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করতে পারেন দলের রাজ্য শাখার নির্বাচন ম্যানজমেন্টের চেয়ারম্যান মুকুল রায়৷

আরও পড়ুন: তৃণমূলের অন্দরমহলের আলোচনায় এবার হাজির প্রশান্ত কিশোর

পদ্ম শিবিরের নীতি এক ব্যক্তি এক পদ৷ তবে পরিস্থিতির বিচারে নিয়মের বদল ঘটে৷ অমিত শাহই যার অন্যতম উদাহরণ৷ দিলীপ ঘোষ রাজ্য বিজেপি সভাপতি৷ আবার তিনিই মেদিনীপুরের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছে৷ এই অবস্থায় কাজ বেড়েছে তাঁর৷ যা একসঙ্গে সামলানো বেশ কঠিন কাজ৷ জানে দিন দয়াল উপাধ্যায় ভবনের নেতারা৷ সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেত্বকে দিলীপবাবুর কাজ অন্য কয়েকজনের মধ্যে ভাগ করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে রাজ্যে নেতৃত্বের তরফে৷ তবে, ২১শের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত দিলীপ ঘোষকেই রাজ্য সভাপতি পদে রাখার পক্ষপাতি মোদী-শাহ জুটি৷

মুরলীধর সেন লেনের পক্ষ থেকে দিলীপের কাজের ভার ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব যেতে পারে৷ এক্ষেত্রে দুটি নাম উঠে আসছে৷ তাঁর উবয়ই বর্তমানে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন৷ সায়ন্তন বসু ও রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়৷ যকোন আন্দোলনে তাঁদের মুখ্য ভূমিকায় দেখা যায়৷

গেরুয়া দলের রাজ্যের আরেক সাধারণ সম্পাদিকা দেবশ্রী সিনহাও সাংসদে গিয়েছেন৷ প্রয়োজন সংগঠনে তাঁর কাজের ভার লাঘব করা৷ দেবশ্রীর জায়গায় কোনও নতুন মুখ ওই পদে আনার চেষ্টায় বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব৷ দেবশ্রী আরএসএসের কাছের বলে পরিচিত৷ আরএসএস ঘনিষ্ট কাউকেই সেখানে আনা হবে কিনা তা নিয়ে দলর অভ্যন্তরেই চর্চা তুঙ্গে৷

আরও পড়ুন: মমতার বাড়ি অভিযান করবে বিজেপি

লক্ষ্য ২১শে বাংলা বিজয়৷ তাই সাফল্যের পর সংগঠনে ঢিলেমি নয়৷ উলটে আরও জোর দিতে চায় বিজেপি৷ তাই বাংলার রাজ্যের সাংগঠনিক রিপোর্ট নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে পদাধিকরীদের৷ ভোটে সাফল্যের পর অন্য দল থেকে পদ্মফুলে নাম লেখাচ্ছে বহু নেতা, কর্মী৷ এর মধ্যেই মনিরুল ইসলাম, উইলসন চম্প্রমারিকে নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে৷ যা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচারা দেবে বলে আশঙ্কা৷ অন্য দল থেকে এলে বিজেপিতে যোগ দিলে তার নীতি কী হবে? সে বিষয়েও বৈঠকে অমিত শাহ দিক নির্দেশ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে৷

সূত্রের খবর, আগামী বছর শরুর দিকে রাজ্যের একাধিক মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া পুরসভায় ভোট হতে পারে৷ সেখানে দলের রণকৌশল কী হবে? তাও প্রদেশ নেতৃত্বকে নির্দেশ দিতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা৷