আগরতলা ও নয়াদিল্লি: একগুচ্ছ নেতা ও মন্ত্রীর আচমকা দিল্লি সফর, সেখানেই থাকা। আর মুখ্যমন্ত্রীকে জমতে থাকা বিদ্রোহ কি ত্রিপুরার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত ? এমনই প্রশ্ন ঘুরছে সুদূর উত্তর পূর্ব ভারতের ছোট্ট বাংলা ও ককবরক ভাষা প্রধান রাজ্য ত্রিপুরায়।

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে একরাশ অভিযোগ এনে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বে উড়ে গিয়ে জুড়ে বসেছেন দিল্লিতে। অভিযোগ, সরকার চালাতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের একনায়ক ভূমিকায় দল বিপাকে পড়ছে।

আগরতলা থেকে প্রকাশিত সব সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এমনই। এতে উঠে এসেছে বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণের নেতৃত্বে বিজেপির অন্তত ১৫ জন বিদ্রোহী বিধায়কের দিল্লি চলে যাওয়ার ঘটনা। গত চব্বিশ ঘণ্টার বেশি তাঁরা রাজ্য ছাড়া।

সূত্রের খবর শুক্রবারই দিল্লিতে বিজেপি কার্যালয়ে ত্রিপুরার বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। থাকছেন গত বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরার দায়িত্বে থাকা সুনীল দেওধর ও শীর্ষ নেতৃত্ব।

এদিকে শুক্রবারই আগরতলা থেকে আরও কিছু বিজেপি বিক্ষুব্ধ বিধায়ক দিল্লি যাচ্ছেন। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে রাশি রাশি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দলীয় বিধায়করা। তাঁরা চাইছেন আসন্ন শারোদৎসব ও উপজাতি স্বশাসিত এলাকা (এডিসি) নির্বাচনের আগেই যেন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন করা হয়।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব টানা রাজধানীতে ছিলেন। তিনি আগরতলা ফিরে আসার পরেই বিক্ষুব্ধ বিধায়করা দিল্লিতে উড়ে যান একে একে। নেতৃত্বে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম হেভিওয়েট নেতা সুদীপ রায় বর্মণ। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ঘুরে গত বিধানসভা ভোটের আগে তিনি বিজেপিতে এসেছেন। তাঁর অনুসারীরা বিজেপিতে নাম লেখান। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বাম শাসন শেষ হয় ত্রিপুরায়। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে সরে যান বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা মানিক সরকার।

বিজেপি ও আইপিএফটি জোটের সরকার চলছে রাজ্যে। বিরোধী বাম ও কংগ্রেসের লাগাতার অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর সন্ত্রাস কায়েম করেছে বিজেপি। যদিও মুক্তমন্ত্রী বিপ্লব দেবের দাবি রাজ্যে আইনের শাসন চলছে। তবে বিরোধী নেতা মানিক সরকারের দাবি, রাজ্যে নিকম্নার সরকার চলছে।

সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েনের মাঝে বারবার রক্তাক্ত হয়েছেন বিরোধী নেতা কর্মীরা। উঠছে আইন শৃঙ্খলা অবনতির অভিযোগ। বিশেষ করে ত্রিপুরায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চিকিৎসা নিয়ে খোদ প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ বারেবারে মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ দেখিয়েছেন। অন্যান্য বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ কারোর কথা শোনেন না। একনায়ক মনোভাব নিয়েই চলছেন তাঁরা।

বিক্ষুব্ধ এই বিধায়কদের মারাত্মক অভিযোগ, যেভাবে চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব তাতে সরকার পতনের মুখে। নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হচ্ছে না।

সরকারপক্ষ বিজেপির এক ডজনের বেশি বিধায়ক বিক্ষুব্ধ হয়ে ফের শিবির পরিবর্তন করলে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মানচিত্রের রং পাল্টে যাবে। ফের ক্ষমতায় আসতে পারে বামফ্রন্ট। এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের মধ্যে। সূত্রের খবর, বিজেপি বিধায়কদের অনেকেই এমন আশঙ্কা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের বেকারত্ব নিরসনে ক্রমাগত ব্যর্থতার নজির তৈরি করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সবমিলে আগরতলার রাজনৈতিক মহল সরগরম। নীরবে জল মাপছে সিপিআইএম ও কংগ্রেশ শিবির। মুখ্যমন্ত্রীও নীরব।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I