স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেসের বিপক্ষেই গিয়েছে। রাজ্য সরকারের উপর কর্মীরা যে খুশি নয় তা বোঝা গিয়েছে ইতিমধ্যেই। সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের নিয়েই ব্যাপক আন্দোলনের পথে যাবে বিজেপি। সোমবারই রাজ্যের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ আরও সাত মাস বাড়িয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন ক্ষোভে ফুটছে। কর্মীরা বলছেন, একটি বেতন কমিশনের মেয়াদ এই নিয়ে ৪ বছর ১ মাস টেনে নিয়ে যাওয়া হলো। বেতন কমিশনের সুপারিশ দিতে পারলেন না চেয়ারম্যান অভিরূপ সরকার। যা সারা দেশের মধ্যেই একটি রেকর্ড। সরকারি কর্মীদের এই ক্ষোভের আগুনকেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চালিত করতে চলেছে বিজেপি।

রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্য বেতন কমিশন অভিযান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১০ লক্ষ সরকারি কর্মীদের নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। এখানে, ত্রিপুরার উদাহরণ তুলে ধরা হচ্ছে। বাম শাসন অপসারণের পর ত্রিপুরায় সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশন পেয়েছে। রাজ্যে প্রচারে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ সরকারি কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। একধাপ এগিয়ে অমিত বলে গিয়েছেন, ২০২১ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সপ্তম বেতন কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

পড়ুন: আমুলের পথেই দুধের দাম বাড়াল মাদার ডেয়ারি

রাজ্য বিজেপির সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে সংগঠন – সরকারি কর্মচারী পরিষদ কমিশনের চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে সল্টলেকে কমিশন অফিসে অভিযান চালাবে। অভিরূপবাবুকে ঘেরাও করে রাখও হতে পারে। পরিষদের আহ্বায়ক দেবাশীষ শীল বলেন, “কলকাতায় বিশাল বড় অবস্থান বিক্ষোভ হবে। কলেজ স্কোরায় বা মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে। সমস্ত সরকারি কর্মীরা জমায়েত হোক, চাই আমরা। এরপর কমিশনের দফতর ঘেরাও করে হবে। এইসব হবে খুব শীঘ্রই।”

দেবাশীষবাবুর কোথায়, বেতন কমিশনের মেয়াদ আরো ৭ মাস বাড়িয়ে দেওয়া হল। মোট ৪ বছরের বেশি করা হল। যা সারা ভারতে নজীরবিহীন। বোঝাই যাচ্ছে এই রাজ্য সরকার পোষ্টাল ব্যালটে রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের, শিক্ষকদের সরকারের প্রতি তীব্র অনাস্থা থেকে কোন শিক্ষাই গ্রহণ করল না।