ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর : মালদহের পর এবার উত্তর চব্বিশ পরগনা। ফের টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহ কাটমানির অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েতের দফতরে তালা ঝোলালো বিজেপির কর্মীরা।

ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁর গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ ব্লকের গোপালনগর থানার অন্তর্গত গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান জাফর আলী মণ্ডলের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা নিয়ে দুর্নীতি এবং কাটমানির অভিযোগ তুলে গ্রাম পঞ্চায়েতের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির কর্মীরা। অবশ্য যার বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির অভিযোগ তাকে শুক্রবার সকালে পঞ্চায়েত দফতরের সামনে একবারের জন্যও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।

তৃণমূলের এই পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিজেপির কর্মীরা জানিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত পঞ্চায়েত প্রধান জাফর আলী মণ্ডল সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যদের বঞ্চনা করছেন। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, গ্রাম পঞ্চায়েতে ইন্দিরা আবাস যোজনায় সরকারি ঘরের বিষয়ে পঞ্চায়েতের যে সমস্ত বিজেপি সদস্য রয়েছে তাঁদেরকে তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানাছেন না। বিজেপি সদস্যদের পুরো অন্ধকারে রেখে অন্যান্যদের দিয়ে একজনকে দু-তিনবার করে সরকারি ঘর পাইয়ে দিচ্ছেন।

এমনকি প্রধান সমস্ত ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারন মানুষের কাছ থেকে এই সুযোগে কাটমানি নিচ্ছেন। সাধারন গরীব মানুষদেরকে বঞ্চিত রেখে মূলত যাদের ঘর পাওয়ার কথা নয় তাঁদেরকে ঘর পাইয়ে দিয়ে এই ভাবে কাটমানি করাকে ভালো নজরে দেখছে না গঙ্গানন্দপুরের বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যরা।

সূত্রের খবর, গঙ্গানন্দপুরের গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট পঁচিশ জন পঞ্চায়েত সদস্য আছেন। তাঁদের মধ্যে নয় জন বিজেপির টিকিটে জেতা পঞ্চায়েত সদস্য। বাকি ষোল জন সদস্যই তৃণমূলের। শুক্রবার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যরা তৃণমূল প্রধানের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে বলেন, যতক্ষন না পর্যন্ত পঞ্চায়েত প্রধান বিজেপির তরফ থেকে আনা অভিযোগ গুলির কোনও সঠিক ভাবে সমাধান করছেন, ততক্ষন সময় পর্যন্ত তাঁরা পঞ্চায়েতের তালা খুলবেন না।

বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের জেরে শুক্রবার সকাল থেকেই পঞ্চায়েতের সমস্ত পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায় । যার ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গঙ্গানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের মধ্যে। যাকে ঘিরে এত কাণ্ড তাঁর তরফ থেকে এই অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।