সৌমিক কর্মকার, কলকাতা: সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে বিজেপি শিবিরে৷ আর সেই ব্যস্ততার মধ্যেই আচমকা হাজির হয়েছে সভাপতি-বিতর্ক৷

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গোটা রাজ্যজুড়ে বুথস্তরে বৈঠক শুরু হয়েছে৷ প্রায় রোজই দলের কর্মীরা কার্যালয়ে আসছেন সাংগঠনিক স্তরের আলোচনা করার জন্য৷ কিন্তু তাঁর মধ্যেই চলে আসছে সভাপতি বদল সংক্রান্ত আলোচনা৷

আরও পড়ুন: দিলীপকে সরিয়ে বঙ্গ-ব্রিগেডের দায়িত্বে আসছেন মোদীর নয়া সেনাপতি

কর্মীরা একে অপরকেই প্রশ্ন করছেন, ‘‘শুনেছো দিলীপদাকে নাকি সরিয়ে দিচ্ছে?’’ একই সঙ্গে কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, ‘‘তাহলে কে আসবেন ওই পদে? তাহলে কি দলের বর্তমান নেতৃত্বের কেউ আসবেন? নাকি আনকোরা কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে?’’ বর্ধমানে দলের মণ্ডল কমিটির এক কার্যকর্তা প্রশ্ন করলেন, ‘‘দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে কি সত্যিই সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?’’ বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা গোটা বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন৷ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে রাজ্যস্তরে সাংগঠনিক রদবদলের কোনও সম্ভাবনা নেই৷ বিজেপির রাজ্য সভাপতির ঘনিষ্ঠ মহল সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দিলীপ ঘোষকেও৷ তবে তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনিই সভাপতি আছেন৷ তিনিই সভাপতি থাকবেন৷

আরও পড়ুন: বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে দিল্লিতে জরুরি তলব ঘিরে জল্পনা

প্রসঙ্গত, দিলীপ ঘোষের রাজ্য সভাপতি পদের মেয়াদ এ বছরের মাঝামাঝির দিকে শেষ হবে৷ বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দু’বার সভাপতি পদে থাকা যায়৷ দিলীপ ঘোষের এটা প্রথম মেয়াদ৷ ফলে তাঁকে দ্বিতীয়বারও রাখা হতে পারে৷ রাজ্যনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বঙ্গ-বিজেপিতে তিনিই একমাত্র সভাপতি যিনি বিধানসভা ভোটে জিতেছেন৷ তাঁর আমলেই বিজেপির ভোটবৃদ্ধি হয়েছে৷ ফলে রাজ্য সভাপতি পদে তিনি সফল৷ তাই আচমকা মাঝপথে তাঁকে সরানো নাও হতে পারে৷ তাই ২০২১ পর্যন্ত তাঁকে সামনে রেখেই ভোটের ময়দানে লড়তে পারে বিজেপি৷

আরও পড়ুন: মমতার বিরুদ্ধে মোদীর নতুন সেনাপতির নাম জানতে তোলপাড় বঙ্গ-বিজেপি

কিন্তু জল্পনা যদি সত্যি হয়, তাহলে! তাই সভাপতি পদে রদবদল নিয়ে আলোচনা কমছে না৷ বিজেপির বিভিন্ন মহলে একাধিক নাম ঘোরাফেরা করছে৷ দলের উত্তর ২৪ পরগনার এক কার্যকর্তার বললেন, দলের বাগ্মী নেতাকে এই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে৷ তিনি বিধানসভা ভোটে সাফল্য পেয়েছেন৷ তিনি যুক্তির জালে বিপক্ষকেও বিঁধতেও পারেন৷ তাই তাঁর নাম ভাবা হচ্ছে৷

অন্যদিকে আবার কারও কারও বক্তব্য, এবার নতুন কোনও মুখ আনা হবে৷ দক্ষতার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন এমন কাউকে আনা হতে পারে৷ এর মধ্যে দু’জন আরএসএস ঘনিষ্ঠ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে৷ যাঁরা দীর্ঘদিন আরএসএসের সঙ্গে থেকে কাজ করেছেন৷ সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে৷ এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে৷

আরও পড়ুন: আঁটঘাট বেঁধে বঙ্গ দখলের লক্ষ্যেই সেনাপতির নাম ঘোষণায় সাবধানী মোদী

কিন্তু শেষপর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে৷ আদৌ কি দিলীপ ঘোষকে সরানো হবে? নাকি অন্য কেউ দায়িত্ব পাবেন, তা একমাত্র বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলতে পারবেন৷