কলকাতা: সম্প্রতি বর্ধমানের একটি সভাতে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, গরুর দুধে সোনার ভাগ থাকে তাই তার রং হয় হলুদ।গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি থাকে। বিদেশী গরু আন্টি৷ এই মন্তব্য করার পর থেকে হইচই পরে গিয়েছে মিডিয়াতে। ঝাঁপিয়ে পরেছেন নেটিজেনরা। মনের আনন্দে করছেন সমালোচনা। তবে এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখা যাচ্ছে নানারকম মিম ও ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ।

তবে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে বেড়িয়ে এল অন্য কথা। সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি গবেষণাপত্র থেকে একটা চার্ট ছড়ানো হচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য সঠিক। রাজ্য বিজেপির যুব নেতা শঙ্কুদেব পন্ডা একটি পোস্ট করেন। পোল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্র থেকে দেখা যায় বিজ্ঞানীরা গরুর দুধে সোনার উপস্থিতি পেয়েছেন। তবে তা অন্যান্য যৌগের মত। তবে ওই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল অন্য। পরিবেশ দূষণের ফলে গরুর দুধে কিরূপ প্রভাব পরে তাই ছিল ওই গবেষণার উদ্দেশ্য।

তবে দিলীপ ঘোষের তত্ত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে সমস্যাতে পরতে হয়েছে বিজেপি শিবিরকেই। কেননা তিনি জানিয়েছিলেন বিদেশ থেকে যে গরু আনা হয় সেই গরু হাম্বা শব্দে ডাকে না। তাই সে গরু নয় সে হল আন্টি। এখন নিজের তত্ত্বের প্রমাণ হিসেবে সাহায্য নিতে হল বিদেশী গরুর উপরেই।

বিজেপির কেউ কেউ বলছেন দিলীপ ঘোষ কোনও ভুল কথা বলেননি। তাঁদের দাবি, প্রাচীন শাস্ত্রে রয়েছে সূর্যকেতু নাড়ির প্রসঙ্গ। এই নাড়ির সঙ্গে সূর্যের সরাসরি যোগ রয়েছে। তবে তা কতটা যুক্তিপূর্ণ তা নিয়ে চলতে পারে তর্ক। অতীব নিরীহ এই প্রাণীটি ভারতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে যে এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তা ভাবতে পারেনি গরু নিজেও।