তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এক প্রতারণার মামলায় দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ডায়মণ্ডহারবার লোকসভা এলাকার বজবজ ও মহেশতলা পুরসভা এলাকা থেকে দুই বিজেপি নেতাকে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম জয়দেব দত্ত ও উমেশ দাস। শনিবার সকালে ধৃত দু’জনকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবি, এবারের লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফায় আগামী রবিবার ডায়মণ্ডহারবার কেন্দ্রে ভোট। ঐ কেন্দ্রেই শাসকদলের প্রার্থী, তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতাতেই বাঁকুড়া পুলিশকে দিয়ে মিথ্যা মামলায় তাদের ফাঁসানো হয়েছে। বাঁকুড়ায় আসা ডায়মণ্ড হারবারের বিজেপি নেতা স্বপন ঘোষ বলেন, কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই মহেশতলা বিধানসভা এলাকার বিজেপির পর্যবেক্ষক উমেশ দাসকে বাঁকুড়া পুলিশ গ্রেফতার করে। একইভাবে বজবজের দলের পর্যবেক্ষক জয়দেব দত্তকে পুলিশ গ্রেফতার করে বাঁকুড়া নিয়ে আসে। এর আগে ধৃত দুই বিজেপি নেতা কোন দিন কোন কারণে বাঁকুড়ায় আসেননি বলে এই বিজেপি নেতা দাবি করেন।

ধৃত জয়দেব দত্ত ও উমেশ দাস বিজেপির পর্যবেক্ষক পদে রয়েছেন দাবি করে বিজেপি সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ভোটের আগে রাজনৈতিকভাবে তাদের সঙ্গে না পেরে সুদূর বাঁকুড়া পুলিশকে কাজে লাগিয়ে এরকম আরও অনেক বিজেপি নেতা কর্মীকে এখানে তুলে আনা হয়েছে। ধৃত দুই বিজেপি নেতাও তাদের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এখানে গ্রেফতার করে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন। পুলিশের প্রিজন ভ্যানে ওঠা ও নামবার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের এই দুই বিজেপি নেতা বলেন, আমরা বিজেপি করি, তাই আমাদের এভাবে তুলে আনা হয়েছে। এই ঘটনাকে তৃণমূল নেত্রী ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চক্রান্ত’ দাবি করে তারা বলেন, রবিবার ভোট তাই বিরোধীদের আটকাতেই এই কাণ্ড করা হয়েছে।

আইনজীবি লোকেশ মুখার্জী বলেন, বাঁকুড়া শহরের কেন্দুয়াডিহির বাসিন্দা জনৈক ভোলানাথ করের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এদের গ্রেফতার করেছে। বাউড়িয়া থেকে বজবজ এলাকার ১২০ জন বিজেপি নেতা কর্মীকে পুলিশ ভুয়ো মামলায় গ্রেফতার করেছে দাবি করে তিনি বলেন, ১৯ মে ভোট, তাই বিজেপিকে আটকাতেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তার দাবি।