স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভোটের ফল বেরোনোর পর এবার প্রকাশ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিজেপির(BJP) বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায় (Tathagata Roy)৷ নির্বাচনে শ্রাবন্তী, পায়েল, তনুশ্রী, পার্নোর মতো তারকাদের টিকিট দেওয়া নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও ‘ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট টিম’-এর উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি৷ তারকাদের ‘নগরীর নটী’ এবং দিলীপ ঘোষ, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, শিব প্রকাশ, অরবিন্দ মেনন প্রমুখকে ‘প্রভু’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

একুশের ভোটে ‘আসলি পরিবর্তনের’ স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলায় গো-হারান হেরেছে বিজেপি। ২০০ আসনের দাবি তুলে ১০০ ছুঁতে পারেননি তাঁরা। স্বভাবতই ভেঙে পড়েছেন দলের উঁচু থেকে নিচু তলার নেতা ও কর্মীরা। কী কারণে দলের এমন ভরাডুবি হল, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে দলের অন্দরে৷ এই পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন তথাগত রায়৷ মঙ্গলবার তথাগত টুইট করে বলেন, ‘পায়েল শ্রাবন্তী পার্নো ইত্যাদি ‘নগরীর নটীরা’ নির্বাচনের টাকা নিয়ে কেলি করে বেড়িয়েছেন আর মদন মিত্রর সঙ্গে নৌকাবিলাসে গিয়ে সেলফি তুলেছেন (এবং হেরে ভূত হয়েছেন) তাঁদেরকে টিকিট দিয়েছিল কে? কেনই বা দিয়েছিল? দিলীপ-কৈলাশ-শিবপ্রকাশ-অরবিন্দ প্রভুরা একটু আলোকপাত করবেন কি?’

আরও পড়ুন: বেসরকারি স্কুলগুলোকে ১৫%বেতন কম নিতে হবে, রায় সুপ্রিম কোর্টের

 দোলের দিন গঙ্গাবক্ষে লঞ্চে তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্রের সঙ্গে আনন্দে মাততে দেখা গিয়েছিল বিজেপির তিন তারকা প্রার্থী শ্রাবন্তী, পায়েল, তনুশ্রী চক্রবর্তীদের। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এই ঘটনায় তখনও পায়েল-শ্রাবন্তীদের তুলোধনা করেছিলেন তথাগত। টুইটে লিখেছিলেন, ‘নগরীর নটী চলে অভিসারে যৌবনমত্তা’! এই নটীদের এখনও এই বোধ হয়নি যে রাজনীতিটা অভিসার নয়৷‘

এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রও।  পায়েল, তনুশ্রী, শ্রাবন্তীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লম্বা পোস্টের ক্যাপশানে রূপাঞ্জনা লিখেছিলেন ”সত্যি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। বাকরুদ্ধ এই ছবি দেখার পর। স্লো ক্ল্যাপস!!” রূপাঞ্জনা তাঁর পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন ”দলীয় কর্মীদের মনোবল ভাঙার অধিকার কে দিয়েছে? উচ্চতর নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।…”

ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের রাজ্যপাল পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর বাংলায় ফিরে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছিলেন তথাগত। বিজেপি সূত্রে খবর, বিধানসভায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়তে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁকে না দিয়ে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষকে টিকিট দেয় দল। সেই সময়ও নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা।  নির্বাচনে খারাপ ফল হতেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগার সুযোগ ছাড়লেন না তথাগত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.