তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মাওবাদীর হুমকি পোস্টার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার সিমলাপাল থানা এলাকার বেনিয়াশোল গ্রামে। শুক্রবার ওই গ্রামের বিজেপি নেতা মহেশ্বর সাহার বাড়ির সামনে তার নাম করে সাদা কাগজে নীল কালিতে লেখা পোস্টারে তাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ওই পোষ্টারে লেখা রয়েছে, মহেশ্বর সাহা তোর জীবনের শেষ দিন ১৬ জুন। একই সঙ্গে পোস্টারের নিচের দিকে ‘জয় বাংলা’ ও ‘মাওবাদী জিন্দাবাদ’ লেখা রয়েছে। আর এই ঘটনায় শাসক দলের যোগ রয়েছে বলে ওই বিজেপি নেতা অভিযোগ করেছেন।

২০১১ পূর্ববর্তী সময়ে তালডাংরা বিধানসভা এলাকার এই অঞ্চলটি মাওবাদী উপদ্রুত হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই সময় এখানকার এক সিপিএম নেতা মাওবাদীদের হাতে খুন হন বলেও অভিযোগ। পরে ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মাওবাদীরা পিছু হটে। তারপর ফের এই এলাকায় মাওবাদীদের নাম করে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে হুমকির পোস্টার পড়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এই হুমকি পোস্টার পাওয়ার পর প্রাণের ভয়ে গোপন আস্তানা থেকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে পাঠানো ভিডিও বার্তায় বিজেপি নেতা মহেশ্বর সাহা বলেন, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে তার মা প্রথম এই পোস্টার গুলি দেখতে পান। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সিমলাপাল ব্লক অফিসে তাকে তৃণমূল মারধর করেছিল অভিযোগ তোলেন তিনি৷ বলেন, শাসক দল এই এলাকা থেকে তাকে সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। একই সঙ্গে মাওবাদীদের নামে হুমকি পোস্টারটি শাসক দলের তরফেই দেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তৃণমূল নেতা মনসারাম লায়েক বলেন, মহেশ্বর সাহা তেমন কোন পরিচিত নেতা নন। এই হুমকি পোস্টার মাওবাদীদের তরফে দেওয়া হয়নি বলেই তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোন যোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি৷ বলেন, এমন হতে পারে কারোর সঙ্গে ওনার ব্যক্তিগত শত্রুতা রয়েছে৷ তিনিই এই কাজ করেছেন। জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য মহেশ্বর সাহা নিজেও কাওকে দিয়ে এমন কাণ্ড করতে পারেন বলে মনসারাম লায়েক মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন পোস্টার কাণ্ডে তাদের দলের কেউ কোনভাবে যুক্ত নন।

এই বিষয়ে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও কলকাতা ২৪×৭ কে টেলিফোনে বলেন, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।