নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে মুঘল আমল ফিরতে আর বেশি দেরি নেই, আবারও বিজেপি নেতার নিশানায় শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা। এবার আন্দোলনকারীদের একহাত নিলেন বেঙ্গালুরুর বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সুরিয়া। শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরির জন্য নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহদের ভূয়সী প্রশংসা করলেন গেরুয়া শিবিরের এই তরুণ নেতা।

শনিবারই দিল্লিতে বিধানসভা ভোট। ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির ৭০টি কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচন। দিল্লির ভোটের প্রচারের শুরু থেকেই বিজেপি নেতাদের আক্রমণের নিশানায় রয়েছেন শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের তুমুল সমালোচনা করেছেন। এমনকী দিল্লির জামিয়া নগরে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে চলা এই আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শুধু মোদীই নন। ভোটের প্রচারে গিয়ে শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের তুলোধনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। বিজেপির ছোট-বড় একাধিক নেতা ভোট প্রচারে আপ-এর সমালোচনার পাশাপাশি বেশি সময় ব্যয় করেছেন শাহিনবাগ নিয়ে।

এবার গেরুয়া শিবিরের দক্ষিণী নেতা তেজস্বী সুরিয়া তোপ দাগলেন শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের। শাহিনবাগকে নিয়ে তুলনা টানলেন মুঘল আমলের। বেঙ্গালুরুর বিজেপি যুব সাংসদ তেজস্বী সুরিয়া বলেন, ‘দিল্লির শাহিনবাগের ঘটনা সম্পর্কে এখনও বহু মানুষই ওয়াকিবহাল নন৷ এটা চলতেই থাকলে দিল্লিতে মুঘল শাসন ফিরতে আর দেরি নেই।’

একইসঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়েও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন বিজেপির এই তরুণ সাংসদ৷ নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দিল্লির জামিয়া নগরে শাহিনবাগে আন্দোলন করছেন কয়েকশো মহিলা৷ প্রতিদিনই কেন্দ্র-বিরোধী ওই মঞ্চে ভিড় বাড়ছে৷ কেন্দ্রের এই আইনের প্রতিবাদ জানাতে সামিল হচ্ছেন বহু মানুষ৷ একইসঙ্গে একটানা আন্দোলন চলায় এলাকার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে৷ ঘোরতর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিপাকে পড়েছেন অফিসযাত্রী ও স্কুলপড়ুয়ারাও।

শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় বসার বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তিনি জানিয়েছেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সবরকম আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর এই বার্তার পালটা কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা।