নয়াদিল্লি: জয়েন্ট এন্ট্রান্সের প্রশ্নপত্র হবে গুজরাতি ভাষায়। আর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব ভাষা ছেড়ে কেন গুজরাতিকে বেছে নেওয়া হল, সে বিষয়ে আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে চারটি ট্যুইট করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভারত হল বহুত্ববাদের দেশ। এখানে বহুভাষা, বহুধর্মের মানুষ বসবাস করেন। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আঞ্চলিক ভাষাগুলিকেই অপমাণ করা হয়েছে। অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর তাঁকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি নেতারা।

মমতার মন্তব্যের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির তরফ থেকে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে যে, ২০১৩-তে এই সংক্রান্ত একটি আবেদন সব রাজ্যেই পাঠানো হয়েছিল। সেক্ষেত্রে কেবল গুজরাতই সাড়া দিয়েছিল। পরে মহারাষ্ট্র আবেদন করেছিল, যাতে মারাঠি ও উর্দুতে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়।

২০১৬ তে দুই রাজ্যই জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মাধ্যমে প্রবেশিকা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু গুজরাত সরকারের অনুরোধে গুজরাতি ভাষায় প্রশ্নপত্র বহাল থাকে, কিন্তু মারাঠি ও উর্দু ভাষায় প্রশ্নপত্র বন্ধ হয়ে যায়।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর তাই কৈলাশ বিজয়বর্গী পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘ভাষার নামে বিভেদ তৈরি করলে আপনার ভোট বাড়বে না। আপনি তো কোনোদিন বাংলা ভাষায় পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আবেদনই করেননি।’

জবাব দিয়েছেন বিজেপির আর এক নেতা বিজয় রূপানিও। তিনি লিখেছেন, ‘মিথ্যা কথা বলার জন্য মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ আপনার। এইসব বিভেদ না ঘটিয়ে আপনার উচিৎ রাজ্যের উন্নয়ন করা।’

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইটারে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই পরীক্ষা ইংরাজি ও হিন্দিতে হত। কেন এভাবেই একটি ভাষাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্র-ছাত্রীরা এই দুই ভাষাতেই পরীক্ষা দিত। তবে আঞ্চলিক ভাষা হিসেবে কেন শুধুমাত্র গুজরাতি কে রাখা হবে তা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাম, কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যদি গুজরাটি ভাষা থাকে তাহলে পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাগুলির এই পরীক্ষাতে থাকা উচিত। আমাদের দেশে রয়েছে অনেক ভাষা, সংস্কৃতি, এবং সেই সকল ভাষার ঐতিহ্য। তাই এই বিষয়টি দেখা উচিত। তিনি আরও জানিয়েছেন,’ আমি গুজরাতি ভাষাকে সম্মান করি। কিন্তু তা বলে কেন অন্য ভাষাকে অসম্মান করা হবে।’ এই বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে বিক্ষোভ হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিবাদ করেছিলেন বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী।